রাজীব দত্ত

 


সদ্য শেখা বুলি

কলমে – শ্রী রাজীব দত্ত
অনুপম ও সুচরিতা একই অফিসে কাজ করার সূত্রে প্রথমে প্রেম এবং বছর দুই আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছে, আদি বাড়ি শিলিগুড়ি হলেও চাকরি সূত্রে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে, তাই দুজনে কলকাতা শহরে এক ফ্ল্যাটে ভাড়া নিয়ে ছোট্ট সংসার তাদের। তবে এক বছর মতন হলো তাদের এক সন্তান হয়েছে নাম রিক।
কাজের সূত্রে দুজনকে বেশিরভাগ সময়টাই অফিসে থাকতে হয়। আর দুজনেরই সংসারে বাচ্চাকে দেখার মতন আর কেউ নেই তাই মাস তিন, চারেক হল তারা বাচ্চা দেখাশুনার জন্য এক আয়া সেন্টার থেকে বিশ্বস্ত এক মহিলাকে কাজে রেখেছেন।
বেশ ভালোভাবেই নিশ্চিন্তে তারা কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরতো, সেই আয়া মাসীর উপর ভরসা করে। তবে রিক যখন কথা বলতে শেখে আধো-আধো উচ্চারণে মাম মাম , পাপাই উচ্চারণের পাশাপাশি কিছু শব্দ এতটাই জড়িয়ে বলতো সেগুলো অস্পষ্ট শুনতে লাগতো তাই ঠিক-ঠাক বোঝা যেত না। অনুপম আর সুচরিতা ভাবত হয়তো নতুন কিছু কথা বলার চেষ্টা করছে।
তবে আরো তিন চার মাস যাওয়ার পর কথাগুলো যখন স্পষ্ট হতে থাকলো তখন সেই অচেনা শব্দগুলোই দাঁড়িয়েছিল খানিকটা এরকম “শালা, কুত্তা, জানোয়ার, হারামজাদা” আরো কত কি।
এই বিষয়ে অনুপম ও সুচরিতা খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ে তারা একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন।
আর সেখান থেকেই এই বিষয়ের আসল উৎপত্তি জানা যায়।
না! আয়া মাসী নিজে হাতে বাচ্চাটাকে এই গালাগালি গুলো শেখায় নি।
সে তার বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যখন রিকের সামনে ফোনে কথা বলত তখন এই শব্দগুলো ব্যবহার করতেন আর সে এই শব্দ শুনে শুনে এগুলো শিখে গেছে সে।
কারণ বাচ্চাকে যা শেখানো হয় বা তার সামনে অবিচল যা ঘটে সে সেটাকে সহজেই আয়ত্ত্ব করে ফেলে।
©®শ্রী রাজীব দত্ত
ভালো লাগলে শেয়ার করবেন।