রতন বসাক

 


ওই ক’টা দিন সব ভুলে মানুষ আনন্দ ভরে নিতে চায় ।

কলমে – রতন বসাক
মাত্র এই ক’টা দিনের জন্য আমরা সারা বছর সবাই অপেক্ষা করতে থাকি । বর্ষা বিদায় নিতে নিতেই শরৎকালের আগমনে আকাশে বাতাসে যেন পুজোর গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে যায় । আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা আর দূর-দূরান্তে কাশফুল জানান দেয় যে পুজো আসছে । মা সপরিবারে আমাদের ঘরের সামনে এসে আমাদের সবাইকে আনন্দ দিয়ে যায় ।
বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই পাড়ায় পাড়ায় তার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় । কোন পাড়া কত সুন্দর করে মায়ের মণ্ডপ তৈরি করতে পারবে তার একটা প্রতিযোগিতা চলে । বর্ষার বৃষ্টির জন্য আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সবুজে ভরে যায় । সবার মনে একটা ভালো লাগার পরিস্থিতি দেখা যায় ।
হাটে বাজারে কেনাকাটার ভিড় দেখা যায় । প্রায় প্রত্যেকেই ধর্ম বিভেদ ভুলে কিছু না কিছু নতুন জামা কাপড় কেনে । দুর্গোৎসব যেন একটা জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়ে গেছে আজকাল । যার যতটুকু সামর্থ্য সে ততটুকুই এই পুজোর সময় আনন্দ করে নিতে চায় । কেননা মানুষের জীবনে সারা বছর দুঃখ কষ্ট তো লেগেই থাকে । তবুও সব ভুলে এই ক’টা দিন আনন্দ ভরে নিতে চায় মনেপ্রাণে ।
আজকাল একটা ভালো জিনিস দেখা যায় সেটা হলো বিভিন্ন পুজো কমিটির উদ্যোগে ও স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার উদ্যোগে গরীব দুঃখী মানুষের জন্য নতুন জামাকাপড় ও ফল মিষ্টি বিতরণ করে পুজোর আগে । যাতে ওই ক’টাদিন উঁচু-নিচু বিভেদ ভুলে সবাই আনন্দ করতে পারে । দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ ভালোই হয় । এছাড়া অনেকেই এই সময় কাজ পেয়ে থাকে । ফলে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতাও দেখা যায় ।
পুজোর ক’টা দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো মানুষ ধর্ম হিংসা বিভেদ ভুলে একে অপরের সাথে মিলেমিশে একসাথে চলতে থাকে । কিছু কর্তব্যপরায়ন ব্যক্তি ছাড়া বাকি সবাই এই সময়ে ছুটির আমেজে থাকে । দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করেই মানুষ একে অপরের কাছে আসে ও ভালোবাসতে শেখে সব ভুলে ।