Md.Akabbor Ali PK

 


“রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে,প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত-যৌবনা,যদি তেমন বই হয়।”- ওমর খৈয়ামের কবিতার ভাবানুবাদ।যেটি করেছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী ।


লিখেছেনঃ #প্রভাষক_একাব্বর_রসায়নবিজ্ঞান


এখনকার ইরানের পুরাতন নাম ছিল পারস্য আর তার রাজধানী ছিল খোরাসান।পারস্যের কিংবদন্তি কবি ওমর খৈয়াম,তাঁর পুরো নাম “গিয়াসউদ্দিন আবুল‌ ফাতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল- খৈয়াম নিশাপুরি।”

ওমর খৈয়ামের জন্ম সেলজুক যুগে হিজরি পঞ্চম শতকের শেষের দিকে খ্রিস্টীয় ১০৪৮ সালের ১৮ মে।

ওমর খৈয়াম একাধারে ছিলেন গণিতবিদ,দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ। ফার্সি ও বিশ্ব সাহিত্যেও এক অনন্য বিস্ময়কর প্রতিভা ছিলেন তিনি।

ওমর খৈয়ামের শৈশব কেটেছিল আফগানিস্তানের বালক শহরে। তার বাবা ছিলেন তাঁবুর কারিগর ও মৃৎশিল্পী। খৈয়াম অর্থ তাঁবু নির্মাতা।


বিখ্যাত দার্শনিক মহাম্মদ মনসুরীর কাছে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করেছিলেন ওমর খৈয়াম। দীক্ষা নিয়েছিলেন ধর্মীয় শাস্ত্র, দর্শন ও গণিতে।

পারদর্শী হয়ে চলে যান খোরাসানের বিখ্যাত শিক্ষক ইমাম মোয়াফফেক নিশাপুরির কাছে। ইমাম মোয়াফফেকও ওমর খৈয়ামের মতো শিষ্য পেয়ে ভীষণ খুশি হন। খৈয়াম হয়ে গেলেন তাঁর সর্বাধিক প্রিয় শিষ্য। ইমাম মোয়াফফেকের কাছেই তাঁর শিক্ষাজীবন সবচেয়ে সমৃদ্ধ হয়েছিল।


ইস্ফাহান শহরে খৈয়াম দিনের বেলায় বীজগণিত ও জ্যামিতি পড়াতেন,সন্ধ্যায় সুলতান মালিক শাহের দরবারে পরামর্শ দিতেন।

আর রাতে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি জালালি পঞ্জিকা সংশোধন করতেন। শেষের কাজটি ছিল প্রচণ্ড পরিশ্রমের।এমনও হয়েছে, রাতে ঘুমিয়ে গেছেন কাজ করতে করতেই।


আততায়ীর হাতে সুলতান মালিক শাহ-এর মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী ওমরকে ঘৃণার চোখে দেখেন। তিনি প্রকাশ্যেই সুলতান মালিক শাহ এর মৃত্যুর জন্য ওমর খৈয়ামকে দায়ী করতেন।সুলতানের স্ত্রীর সন্দেহ খৈয়াম গোপন চর হিসেবে এই হত্যার পেছনে জড়িত ছিল।

এমন বেগতিক অবস্থায় ওমর খৈয়াম সব ছেড়ে হজ্ব করতে চলে যান মক্কা ও মদীনায়।সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ছিলেন।


একসময় তাঁকে নিশাপুরে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। নিশাপুরে ওমর গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিষয়ক তার বিখ্যাত রচনাগুলো সমাপ্ত করেছিলেন। এই সময়কালই ছিল খৈয়ামের জীবনে সবচেয়ে আদর্শ সময় ও সমৃদ্ধির কাল।


ওমর খৈয়াম জ্যামিতি, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ইতিহাস, কোরানোলজি, থিওসোফি, দর্শন এবং ফিলোলজিকাল শাখার একটি সেটও বিশেষভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন, যা তৎকালীন শিক্ষার ধারণার অংশ ছিল। তিনি আরবি সাহিত্য জানতেন, আরবী ভাষায় সাবলীল ছিলেন।ওমর চিকিৎসা ও জ্যোতিষশাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন এবং সংগীত তত্ত্বও অধ্যয়ন করেছিলেন।

খৈয়াম পুরোপুরি হৃদয় দিয়ে কুরআন জানতেন,

যে কোনও আয়াত ব্যাখ্যা করতে পারত।এমনকি প্রাচ্যের সর্বাধিক বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদরা ওমরের কাছে পরামর্শের জন্য আসতেন।


✓ওমর খৈয়ামের যুগান্তকারী কাজ :

• রনে দেকার্তের আগে ওমর খৈয়ামই বিশ্লেষণী জ্যামিতি আবিষ্কার করেছিলেন।

• স্বাধীনভাবে গণিতের দ্বিপদী উপপাদ্য আবিষ্কার করেছিলেন তিনিই।

• বীজগণিতে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানও প্রথম তাঁর হাতেই হয়েছিলো।

• বীজগণিতের গুরুত্বপূর্ণ

“Treatise on Demonstration of Problems of Algebra“ গ্রন্থে তিনি ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানের একটি পদ্ধতি বর্ণনা করেছিলেন। এই পদ্ধতিতে একটি পরাবৃত্তকে বৃত্তের ছেদক বানিয়ে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান করেছিলেন ওমর খৈয়াম।

• ওমর খৈয়ামের আরেকটি বড় অবদান হলো ইউক্লিডের সমান্তরাল স্বীকার্যের সমালোচনা যা পরবর্তী সময়ে অ-ইউক্লিডীয় জ্যামিতির সূচনা হয়েছিল।

• এছাড়া তিনিই দ্বি-পদী রাশিমালার বিস্তার করেন।

• ইসলামি সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞানের সোনালী যুগে তথা এখন থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগে বীজগণিতের যেসব উপপাদ্য এবং জ্যোতির্বিদ্যার তত্ত্ব ওমর খৈয়াম দিয়ে গেছেন সেগুলো এখনও গণিতবিদ এবং মহাকাশ গবেষক বা জ্যোতির্বিদদের গবেষণায় যথাযথ সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


✓ জীবনের একটা সময় ওমর খৈয়ামের খ্যাতি ছিল গণিতবিদ হিসেবে।

১০৭০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর বই “মাকালাত ফি আল জাবর্ আল মুকাবিলা” প্রকাশিত হয়েছিল। এই ব‌ইতে তিনি ঘাত হিসাবে সমীকরণের শ্রেণিকরণ এবং দ্বিঘাত সমীকরণের সমাধানের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেছিলেন। আবার তিনি কৌনিক সেকশনের বিভিন্ন ছেদকের সাহায্যে নানারকম ত্রিঘাত সমীকরণ সমাধান করেছিলেন।


✓ ওমর খৈয়াম ছিলেন অনন্য মেধার সংমিশ্রণ।

কিন্তু তাঁর কাব্য প্রতিভার আড়ালে বরাবরই জ্যোতির্বিদ হিসেবে তাঁর ভূমিকা অনেকখানি ঢাকা পড়ে গেছে। অথচ পারস্য পঞ্জিকা সংশোধনও করেছিলেন তিনি। সেলজুকের বাদশাহ মালিক শাহ ১০৭৩ সালে একটি মানমন্দির নির্মাণের জন্য কজন বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তার দরবারে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ওমর খৈয়াম। সে সময় ওমর সফলভাবে বছরের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করেছিলেন।

তাঁর হিসাবে এটি ছিল ৩৬৫.২৪২১৯৮৫৮১৫৬ দিন। এই ক্যালেন্ডারের হিসাবে প্রতি ৫,৫০০ বছরে এক ঘণ্টার গড়মিল হয়ে থাকে।

আমরা যে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করি তাতে প্রতি ৩,৩০০ বছরে একদিন গোলমাল হয়ে থাকে।

কীভাবে পারস্য পঞ্জিকা সংশোধন করতে হবে তাও তিনি হিসাব করেছিলেন। ১০৭৯ সালের ১৫ মার্চ সুলতান জালাল আল-‌দিন মালিক শাহ সালজুক ওমরের সংশোধিত বর্ষপঞ্জী চালু করেন।ওমর একটি তারাচিত্র বা খ‌ন্ড চিত্রও তৈরি করেছিলেন যদিও এটি এখন আর পাওয়া যায় না।তবে অন্যান্য ক্যালেন্ডারগুলোর ভিত্তি ওমর খৈয়ামের বর্ষপঞ্জী।


✓ ওমর খৈয়ামের কাব্য প্রতিভা :

দীর্ঘ কাহিনী ধরনের কবিতা হলো মসনবি।সেটা লিখে গেছেন মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি। প্রেম-বিরহের জন্য গজল।কারও প্রশংসা করলে,তবে সেটি হলো কাসিদা। আর দর্শন নিয়ে লিখলে সেটি ওমর খৈয়ামের রুবাই।

রুবাইয়ের রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। লেখা হবে চার লাইনে। প্রথম ও দ্বিতীয় লাইনে থাকবে অন্তমিল। কিন্তু তৃতীয় লাইনটি প্রথম ও দ্বিতীয় লাইনের সাথে মিল থাকবে না। তৃতীয় লাইনে কবির অভিব্যক্তি বা বিচার বিশ্লেষণ প্রকাশ পাবে। আবার চতুর্থ লাইনটি প্রথম ও দ্বিতীয় লাইনের সাথে অন্তমিল থাকবে।


ওমর খৈয়াম হাজারেরও বেশি রুবাইয়াত বা গদ্য লিখেছেন। তার মৃত্যুর বহুকাল পরে খৈয়ামের এই লেখাগুলো পাশ্চাত্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ‘ওমরের রূবাইয়াত’ নামে কবিতা সমগ্রের জন্য তিনি বেশি বিখ্যাত। তাঁর কবিতাগুলো পাঠ করা হতো দর্শনের বয়ান হিসেবে।

খৈয়াম তাঁর দর্শনের ভাবনাই লিখলেন রুবাই ধরনে। একবচনে রুবাই, বহুবচনে রুবাইয়াত। মানে চতুষ্পদী। যে ভাবনাগুলো খৈয়ামের মনে দর্শন বা পদ্ধতিভিত্তিক বিজ্ঞানের আওতায় তাৎক্ষণিক এসে ধরা দিত না, সেগুলোকেই তিনি কবিতায় লিখে রাখতেন।


ওমর খৈয়ামের কবিতা সমগ্রকে বলা হয় “রুবাইয়াৎ”। যার প্রতিটি কবিতা অবিশ্বাস্য প্রতিভার সংমিশ্রণ। কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন,

“শরাব যেন ওমরের রুবাইয়াৎ”।


ইরান ও পারস্যের বাইরে ওমরের বড় পরিচয় কবি হিসেবে। এর কারণ তাঁর কবিতা বা রুবাইয়াৎ এর অনুবাদের ভীষণ জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে ইংরেজ ভাষী দেশগুলোতে ওমরের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আজও জালালুদ্দিন রুমির পর ওমরই সর্বাধিক জনপ্রিয়।


প্রখ্যাত দার্শনিক ও সাহিত্যিক টমাস হাইড পারস্যের বাইরে প্রথম সাহিত্যিক যিনি ওমর খৈয়ামের কাজ সম্পর্কে গবেষণা করেছিলেন। তবে, বহির্বিশ্বে খৈয়ামকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করেন(১৮৫৯)এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড।তিনি ওমর খৈয়ামের ছোট ছোট কবিতা বা রুবাই অনুবাদ করে তা “রুবাইয়াতে ওমর খৈয়াম” নামে প্রকাশ করেছিলেন। যা ফিন ডি সাইকেলের প্রাচ্যতত্ত্ববাদে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছিল।এই কবিতাগুলো ওমরের কবিতাগুচ্ছের একাংশ।


বাংলা সাহিত্যে ওমর খৈয়ামের রুবাইয়াৎ অনুবাদ করেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেকে। ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বরে কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদকৃত “রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম” গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।সৈয়দ মুজতবা আলী ভূমিকা লিখেছিলেন। খৈয়াম কাজী নজরুল ইসলামকেও প্রচন্ড আকর্ষিত করেছিলেন। নজরুল বহু রাত জেগে সমাপ্ত করেছিলেন রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম।

নজরুল তুলনা দিয়েছিলেন তাকে শরাবের মতো।

রুবাইয়াৎ এর নজরুলের অনুবাদ অত্যন্ত চমৎকার ভাষাভঙ্গি।এজন্য নজরুলের রুবাইয়াৎ অনুবাদই সবচেয়ে জনপ্রিয়। অন্যান্য অনুবাদকের চেয়ে নজরুলের অনুবাদ অনুভূতির পরশে, যথাযথ শব্দের পারিপাট্যে উজ্জ্বল।


মার্কিন কবি জেমস রাসেল লোয়েল ওমরের রুবাইকেই অভিহিত করেছিলেন, “চিন্তা- উদ্দীপক পারস্য উপসাগরের মুক্তা” বলে।


ফার্সি কাব্য-জগতে ওমর খৈয়াম এক বিশেষ চিন্তাধারা ও বিশ্বদৃষ্টির পথিকৃৎ।মধ্যযুগের বিখ্যাত মুসলিম মনীষী জামাকসারি ওমর খৈয়ামকে বর্ণনা করেছিলেন “বিশ্ব দার্শনিক” হিসেবে।


ওমর তাঁর কবিতায় প্রচুর তুলনা ও কাব্যিক উদাহরণ টেনেছেন, যার ফলে এক শ্রেণির লেখক সুবিধাও পেয়েছেন।

ওমর খৈয়ামের জীবনে সৃষ্টির ক্ষেত্রে তার অতৃপ্তিও ছিল বিস্তর। বিশেষ করে জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতের অনেক কঠিন রহস্য বা প্রশ্নের সমাধান দিয়ে গেলেও অনেক অজানা বা রহস্যময় বিষয়গুলোর সমাধান জানতে না পারায় আক্ষেপ করে গেছেন।

শুধু তাই নয়, জীবন এবং জগতের ও পারলৌকিক জীবনের রহস্য বা দর্শন সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন ওমর খৈয়াম। এসব প্রশ্ন শুধু তাঁর মনেই নয়, যুগে যুগে জ্ঞান-তৃষ্ণার্ত বা অনুসন্ধানী মানুষের মনের প্রশান্ত সাগরেও তুলেছে অশান্ত ঝড়। দার্শনিকরা মূলত এই ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করে থাকেন। কারণ দর্শনের যুক্তি দিয়ে অনেক কিছু বোঝানো সম্ভব হলেও তারও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। দর্শন বা বিজ্ঞান দিয়ে যে ভাব তুলে ধরা যায় না খৈয়াম তা কবিতার অবয়বে তুলে ধরতে চেয়েছেন। আর তাই যুক্তি ও আবেগের করুণ রসের প্রভাবে ওমর খৈয়ামের চার-লাইন বিশিষ্ট কবিতাগুলো কবিতা জগতে হয়ে উঠেছে অনন্য।

দার্শনিকরা একটি বই লিখেও যে ভাব পুরোপুরি হৃদয়গ্রাহী করতে পারেন না,গভীর অর্থবহ চার লাইনের একটি কবিতার মধ্য দিয়ে ওমর খৈয়াম তা সহজেই তুলে ধরেছেন।


ওমর খৈয়ামের লেখা একটি কবিতার সৈয়দ মুজতবা আলীর অনুবাদ এমন-

“সৃষ্টির রহস্য জানো না তুমি, জানি না আমি

এ এমন এক জটিল বাক্য যা পড়তে পারো না তুমি,

না আমি

পর্দার আড়ালে তোমায় ও আমার মাঝে চলছে এ আলাপ

পর্দা যেদিন উঠে যাবে সেদিন থাকবো না তুমি ও আমি।”


আবার কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদে এসেছিলো তাঁর খোদাকে জানা ও বোঝার আগে নিজেকে জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষাও প্রয়োজন।

নজরুলের অনুবাদ-

“বিশ্ব- দেখা জামশেদিয়া পেয়ালা খুঁজি জীবন-ভর

ফিরনু বৃথাই সাগর গিরি কান্তার বোন আকাশ- ক্রোড়।

জানলাম শেষ জিজ্ঞাসিয়া দরবেশ এক মুর্শিদে

জামশেদের এই জাম-বাটি এই আমার দেহ আত্মা মোর।”


ওমর খৈয়াম তার মৃত্যুর শেষ ইচ্ছে এঁকেছেনও নিজ কাব্যে। তিনি লিখেছিলেন,


“তুঙ্গী ময় লল খোয়াম ওয়া দিওয়ানী

সদ্দ রমকী বায়েদ ওয়া নিফসে নাজি

ওয়াজ গাস মান ওয়াতু নিসফতে দর ওয়ারাজি

খোশতর বুদ আম সামলাকাত সুলতানী”


কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদ –


“এক সোহারি রুটি দিও,একটু রুটি ছিলকে আর,

প্রিয় সাকি, তাহার সাথে একখানি বই কবিতার,

জীর্ণ আমার জীবন জুড়ে রইবে প্রিয়া আমার সাথ,

এই যদি পাই চাইবনা কো তখন আমি শাহানশার!”


এই বিশ্বখ্যাত কবি ও মহামনীষী জীবনের অনেক ঘাত প্রতিঘাত পার হয়ে ১১৩১ সালে ৪ ডিসেম্বর ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে সমাধিস্থ এখন ওমর খৈয়ামের মাজার। তাঁর এক শিষ্য নিজামী আরুজী গল্পটি বর্ণনা করেছেন যে ১১১২-৩৩ এর কিছু সময় খায়াম আল-ইসফিজারির (জালালী ক্যালেন্ডারে তাঁর সাথে সহযোগিতা করেছিলেন এমন এক বিজ্ঞানী) খৈয়াম যখন বালখতে ছিলেন তখন তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে “আমার সমাধিটি এমন জায়গায় থাকবে যেখানে উত্তর বাতাস সমাধির উপরে গোলাপ ছড়িয়ে দিতে পারে।”


তথ্যসূত্রঃ

বাংলায় খৈয়াম ও নজরুল অনুবাদ- ড. শামসুল আলম সাঈদ।

নজরুল ইসলাম ও ওমর খৈয়াম- সৈয়দ মুজতবা আলী।

the daily star,linkedin,wikipedia.prothom alo.