আজিমপুর টু উত্তরা স্যরি - আনোয়ার হাকিম।

 
আনোয়ার হাকিম

করোনার তান্ডব চলছে। বিশ্বজুড়ে এর দাপাদাপিতে রাজা বাদশা থেকে শুরু করে উচ্চ-মধ্য-নিম্নবিত্ত, হাই প্রোফাইল- লো- প্রোফাইল, সেলিব্রেটি, ছুত-অচ্ছুত সবাই আছে পেরেশানিতে। করোনার কারণে দশ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভার্সিটি বন্ধ। অফিস আদালতও। 


সবাই সপরিবারে নিজ নিজ গ্রামে, মফস্বলে। রাজধানী আলটপকা ফাঁকা। মেসের বুয়া বিনা নোটিশে গায়েব। মেসম্যাটরাও যার যার দেশের বাড়ীতে। আমিও যাবো, যাবো করছি। কিন্তু বাধ সেজেছে খালা। সপরিবারে বাড়ী যাবে। 


তার প্রস্তাব আমি যেন তার উত্তরার বাসার অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বটা গ্রহণ করি। ফ্রিজে আলাদা আলাদা বাক্সে মাছ-মাংস রান্না করা আছে। ওভেনে গরম করে নিলেই হবে। বাসায় টিভি আছে। আছে ডিশ কানেকশন। আর ওয়াইফাই সুবিধা। ঢাকায় বিপদে আপদে খালাই ভরসা।না করি কি করে? ২৫ মার্চ সরকার দশ দিনের ছুটি ঘোষণা করায় খালার বাসাতে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষতক পাল্টে ফেললাম। খালা মনঃক্ষুণ্ণ হলেন কিছুটা। জীবনে এই প্রথম একটা সিদ্ধান্ত নিজের বুদ্ধিতে নিয়ে গিয়ে বুঝতে পেরেছি আহাম্মকেরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা। ভার্সিটি ছুটি।


ঢাকায় পরিচিত আর কেউ নেই। যারা ছিলো সবাই ঢাকা ছেড়ে যার যার দেশের বাড়ীতে। আগে থেকে টিকেট কাটার অভ্যেস কোন কালেই ছিলো না। এলাহী ভরসা করে স্টেশনে গিয়েই টিকেট তালাশ করি।মিললে ভাল। না মিললে কালোবাজারি মামাদেরকে কিছু ধরিয়ে দিলেই পাওয়া যায়। আর একান্তই না পেলে দু’পা ভরসা। স্ট্যান্ডিং টিকেট তো আছেই। স্টেশনে গিয়ে কাউন্টারে টিকেট চাইতেই কাউন্টার থেকে পাশে দাঁড়ানো বালিকাকে দেখিয়ে বললো, “উনার কাছে আছে”। 

আমি তো হতবাক।তবে কি সুন্দরী বালিকা টিকেট কালোবাজারিতে নাম লিখিয়েছে? চোখাচোখি হতেই সেই সুন্দরী বললো, “যাবেন কোথায়”? বললাম,”জামালপুর”। বালিকা বললো, “আমার সাথে এক আত্মীয়ের যাবার কথা ছিলো। শেষ মুহুর্তে ক্যানসেল হওয়ায় একটা টিকেট স্পেয়ার হয়েছে। কিন্তু এক টিকেটে দুই সিট থাকায় ফেরৎও দিতে পারছিনা। আমি অবশ্য ময়মনসিংহ নামবো”। তারমানে টিকেট কনফার্ম। সাথে ননস্টপ বালিকা সঙ্গ;আপ টু ময়মনসিংহ। তার পর না হয় দাঁড়িয়েই যাওয়া যাবে। বললাম, “ নো প্রবলেম।


 কত দিতে হবে”? বালিকা মুচকি হেসে বললো, “আচ্ছা, চলুন তো আগে ট্রেনে গিয়ে বসি”। ট্রেন ছাড়তে আরো দশ মিনিট বাকি। মনে মনে চাচ্ছি আজ ট্রেন এক ঘন্টা দুই ঘন্টা লেট হোক। ক্ষতি কি? নাহয় কয়েক ঘন্টা পরেই বাড়ী গিয়ে পৌছাবো। সিট নম্বর ঠ- চৌত্রিশ, পঁয়ত্রিশ। পাশাপাশি। বসতে গিয়ে বাঁধলো বিপত্তি। সেখানে আগে থেকেই এক বয়ষ্ক দম্পতি বসে আছেন। টিকেট চেক করা হলো। তাদেরও সিট নম্বর ঠ-চৌত্রিশ, পঁয়ত্রিশ। টিকেট কাটার তারিখ পরখ করা হলো। 


সেটাও তাদের পক্ষে। একদিন আগে কাটা। কোন উপায় নেই। বালিকার মুড অফ।আর আমার মুখ অন্ধকার। বীরত্ব দেখানোর সুযোগ নেই। প্রামানিক দলিল আমাদের বিপক্ষে। মাস্তানী করেও টেকা যাবেনা। কারণ উনারা বয়ষ্ক। আর কম্পার্টমেন্টের এত এত লোকের কারো অনুকম্পাই পাওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে ট্রেন চলতে শুরু করে দিয়েছে। “দেখছি” বলে বালিকাকে দাঁড় করিয়ে রেখে টিকেট চেকার খুঁজতে লেগে গেলাম। পেয়েও গেলাম কাছাকাছি। উভয় পক্ষের দলিলপত্র দেখে তিনি বিজ্ঞের মত মাথা নাড়লেন । আর অস্ফুট স্বরে বললেন, “আসুন”। 

বালিকাকে নিয়ে কম্পার্টমেন্টের পর কম্পার্টমেন্টের করিডোর বরাবর লোক ডিঙ্গিয়ে হাঁটছি তো হাঁটছিই। কিছুক্ষণ পর এই যাত্রার অবসান হলো। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মত। এসি কুপ। মন নেচে উঠলো। ভাবটা এমন, একেই বলে কপাল ! কিন্তু দরোজা খুলেই মুখ অন্ধকার। ভেতরে আরেক বৃদ্ধ দম্পতি বসে আছেন। পর্দানশীল। মিনিট তিনেক পরেই সেই বৃদ্ধ ভদ্রলোকের জেরার মুখে পড়লাম। কোথায় থাকি? কোথায় যাচ্ছি? আমাদের দু’জনের সম্পর্ক কি? ইত্যাদি নানাবিধ প্রশ্ন। আমি বিব্রত। আর বালিকা হতকচিত। লজ্জায় আর হতাশায় লালচে, কালচে শ্রী। 


কাজিন বলে চালিয়ে দিতেই সেই বৃদ্ধ আরো কৌতুহলী হয়ে উঠলেন। আমি জামালপুর যাবো শুনেই তিনি আরো সম্পূরক প্রশ্নের ডালি খুলে বসলেন। জামালপুর কোথায় বাসা? বাবার নাম কি? কি করেন? ইত্যাদি। আমার চুবানির এখানেই শেষ না। সহসাই বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল। সেই বৃদ্ধ বাবার বাল্য বন্ধু। সরকারি চাকরির কারণে দেশের সাথে যোগাযোগ কম। তাই আমাকে দেখেন নি এর আগে কোনদিন। আমি ঢোক গিললাম। ভাবছি জানালা দিয়ে এখনই ঝাঁপ দেই। কিন্তু তাতো সম্ভব না। বালিকার দিকে চোখ পড়তেই আমি চমকে উঠলাম।

আমার এই নাস্তানাবুদ অবস্থা দেখে বালিকা মুচকি হাসছে আর আড় চোখে এমন ভাব প্রকাশ করছে যেন “এখন ঠ্যালা সামলান”।এরপর শুরু হলো বালিকার তত্ব-তালাশ। কাজিন হলে সে ময়মনসিংহ নামবে কেন? আমি আগ বাড়িয়ে বললাম, “ওর বাবা মানে আমার আংকেল সরকারি চাকরি করেন তো, তাই”। ভেবেছিলাম এতেই এ প্রসঙ্গের যবনিকাপাত হবে। কিন্তু হলো উল্টো। এখন প্রশ্ন বালিকার চৌদ্দ গুষ্ঠি নিয়ে। 


বাবা কোন অফিসে চাকরী করেন? তাদের অরিজিনাল বাড়ী কোথায়? বাড়ীতে আর কে কে আছেন? কয় ভাই বোন? আমাকে দেখিয়ে বললেন কেমন কাজিন? আমি বললাম,দুর সম্পর্কের। এরপর তিনি আরো অগ্রসর হয়ে বললেন, “মা, কিছু মনে না করলে তোমার বাবার নাম, ফোন নম্বর আর ডেজিগনেশনটা একটু লিখে দেবে? দরকার ছিলো”। 

এই বলে তিনি তার সহধর্মিণীর সাথে একান্তে কি যেন বলতে থাকলেন। এরি মধ্যে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি যে কোন মূল্যে বিনা বাক্য ব্যয়ে কম্পার্টমেন্ট ত্যাগ করবো। ট্রেন ছুটে চলেছে সবেগে। নামার কোন উপায় নেই। বেস্ট পসিবল অপশন হলো ঝাঁপ দেয়া। বরাবর ভীরু প্রকৃতির আমি জীবনে সুন্দরী বালিকাকে একান্তে পেয়ে কিছুটা চাঙ্গা হতে গিয়েছিলাম। এখন আম ছালা উভয়ই খোয়াবার জোগাড় হয়েছে। সামনে বাবার বাল্য বন্ধু। 

তার মানে কি? নির্ঘাত এই ভ্রমণ কাহিনী সবিস্তারে বাবার কানে গিয়ে পৌছবে। এমনিতেই বাড়ী যাইনা বলে বাবা ভীষণ রেগে থাকেন। আর মা অনুযোগ করেন। এখন উল্টো পাল্টা কী ভাববেন কে জানে? কুপ থেকে বেরোবো এটা ফাইনাল। কিন্তু বাধ সেধেছে তিন দায়। এক, বাংকারে আমার হ্যান্ড ব্যাগ রাখা।ওতে কিছু মূল্যবান ডকুমেন্টস আছে। দুই, বালিকার টিকেটের মূল্য পরিশোধ করা হয়নি।

 আর তিন, এই বৈরী পরিবেশে নিষ্পাপ এক বালিকাকে ফেলে রেখে পালাই কি করে? যাহোক, “আসছি” বলে এমন একটা ভাব করলাম যেন ওয়াশ রুমে যাচ্ছি। কুপের বাইরে এসে খানিকক্ষণ জোরে জোরে দম ফেললাম আর নিলাম। জীবনে এই প্রথম পড়বি তো পড় মালীর ঘাড়েই পড়লাম। সিগারেটের অভ্যেস নেই। কফি খেতে মন চাইছে। কিন্তু সেই বালিকাকে ফেলে স্বার্থপরের মত খেতে মন সায়ও দিচ্ছেনা। কিছুক্ষণ পর চক্ষু চড়কগাছ। সেই বৃদ্ধ বেরিয়ে এলেন। 

কাছে এসে বললেন, “বাবাজি এখানে দাঁড়িয়ে কেন? ভেতরে যাও। ফিল ফ্রি। তুমি তো জানোনা তোমার বাবা আর আমি কত ইন্টিমেট ছিলাম। স্কুলে আমাদের যেমন গলায় গলায় ভাব ছিলো তেমনি পড়ালেখায় ছিলো তুমুল ফাইট। একবার সে ফার্স্ট হলে পরের বার আমি। সেবার জামালপুর জেলা স্কুল থেকে আমরা দু’জনেই লেটার সহ ফার্স্ট ডিভিশন পেয়েছিলাম”। 

আমি যেন কুঁকড়ে যাচ্ছি। সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা শেষ পর্যন্ত জামালপুর যাবো নাকি বালিকাসহ ময়মনসিংহ নেমে বাসে করে আবার ঢাকায় ফিরবো। সেই বৃদ্ধলোক ওয়াশরুমে ঢুকলেন। এখনই সুবর্ণ সুযোগ। তাড়াতাড়ি কুপে ঢুকে ব্যাগটা নিয়ে বালিকাকে বললাম, “ আমি সামনে আছি। এক ফ্রেন্ডের ওখানে”। 

তাকে কোন প্রশ্ন করতে না দিয়ে বেরিয়ে গেলাম সামনের কম্পার্টমেন্টের দিকে।এই কম্পার্টমেন্টটা কিছুটা হাল্কা। বালিকাকে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু তার নাম জানিনা। ফোন নম্বরও নেয়া হয়নি। আর পুনর্বার সেই ভয়াল কুপে বৃদ্ধের তোপের মুখোমুখি হবার ইচ্ছেও নেই। কিন্তু মনটা খচ খচ করছে অনবরত। একেতো বালিকাকে অসহায় অবস্থায় রেখে আসা স্বার্থপরের মত কাজ হয়েছে। অন্য দিকে তার প্রাপ্য টিকেটের মূল্যও দেয়া হয়নি। 

পরক্ষণেই মনের মধ্যে সমাধান পথ বেরিয়ে এলো। বালিকা যখন ময়মনসিংহ নামবে তখন টাকাটা দিলেই ঋণ মুক্ত হওয়া যাবে। কিন্তু থেকে থেকে সেই অজানা অচেনা বালিকার সুশ্রী অথচ বিব্রত ম্লান মুখটাই ভেসে উঠছে। আমি কি দুর্বল হয়ে যাচ্ছি তার প্রতি? ধ্যাত। কীসব আজেবাজে চিন্তা করছি। টিকেটের টাকাটা আলাদা করে বুক পকেটে রাখলাম যাতে চট করে দেওয়া যায়। “আপনি এখানে”? বালিকার প্রশ্নে হতকচিত হয়ে বললাম, “ কি করবো? বিধি বাম। বাবার বাল্য বন্ধু বলে কথা। কপালে যে কী আছে কে জানে”?
– কেন, উনি তো খুব ভাল মানুষ। আন্টিও। বালিকার সহাস্য উত্তর
– মানে! আমার বিস্ময়
– অনেক আলাপ করলেন।
– যেমন?
– তার এক ছেলে ফুল ব্রাইট স্কলারশীপ নিয়ে পিএইচডি করছে আমেরিকায়। পিএইচডি শেষ। শুধু
প্রেজেন্টেশন বাকী। এখন দেশে আছে। বিয়ে করেই ফিরে যাবে ওখানে।
– ভালো তো
– হ্যা তো
– আর কি বললেন?
– আর আমার বায়োডাটা নিলেন। কয় ভাই কয় বোন। কে কি করে? আমি কত নম্বর? বাবা কি
করেন? ফোন নম্বর চাইলেন।
– দিয়েছেন?
– আরে না। মাথা খারাপ। উনি তো তার ছেলের পাত্রী হিসেবে আমাকে দেখছেন। আন্টিরও খুব
ইচ্ছে। আমাকে নাকি খুব পছন্দ হয়েছে তাদের।
– ভালোই তো। ছেলে ফুলব্রাইট স্কলার। আমেরিকায় সেটেল করবে । মহারানী করে রাখবে। আর
কি চান? আমি হতাশা চেপে রেখেই বললাম।
– ধ্যাত। পাগল নাকি?
– ক্যান?
– আমার বিএফ আছে না?
– ও তাই? মনটা এবার পারমানেন্টলি চুপসে গেল।

ট্রেন ময়মনসিংহ স্টেশনে ঢুকবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। বালিকা ব্যাগ আনতে গেল। আমি টাকাটা দিতে হাত বাড়ালাম। মুচকি হেসে বললো, “রাখেন। বাড়ী গিয়ে পিঠে যখন লাঠি পড়বে তখন ওষুধ কিনে খাবেন”।
– আপনার নামটা জানা হলোনা কিন্তু। আমার নির্লজ্জ প্রকাশ।
– নাম দিয়ে কি করবেন? বালিকার দুষ্টুমি
– না। এমনি
– ইরা
– আমাদের আর দেখা হওয়ার সম্ভাবনা কি আছে?
– মনে হয়না
– কেন?
– বললাম না আমার বিএফ আছে
– ও। আমি আবারো চুপসে গেলাম।
– তবে আপনার নম্বরটা লিখে দিন। প্রয়োজন হলে আমিই কল দেবো। ইরার সহাস্য উত্তর।
– আচ্ছা। আমি ঘাড় নাড়লাম।
– আর হ্যা, যাকে তাকে কাজিন বানাবেন না। পরিণতি দেখলেন তো?
– তাই তো দেখছি।

সেই থেকে ইরার ফোনের আশায় বসে থাকি। মোবাইল হাত ছাড়া করিনা কখনো। বড় বাথরুম আর ছোট বাথরুম পেলেও সাথে নিয়ে টয়লেটে ঢুকি। ভলিউম একেবারে হাই লেভেলে সেট করে রাখি। কিছুক্ষণ পর পর ম্যাসেজ চেক করি। ফেবুতে ‘ইরা’ নাম লিখে সার্চ দেই। হাজারো ইরা ভেসে আসে। কিন্তু হাজারো ইরার ভীড়ে সেই ইরাকে আর পাইনা। কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারছিনা তাকে। মনে মনে বাবার সেই বাল্যবন্ধুর উপর ভীষণ রাগ হলো। 

বুড়ো হলে মনে হয় লোকজনের প্যাচাল পারা আর তত্ত্ব-তালাশের মাত্রা বেড়ে যায়। পরক্ষণেই মনটা বিষিয়ে উঠে।ক্ষনিকের দেখা একজন ইরাকে নিয়ে নিষ্ফল এই ভাবনায় লাভ কি? তার তো বয় ফ্রেন্ড আছে। ভণিতা না করে আগেভাগেই সেকথা জানিয়ে দিয়েছে সে। তবু তার কোমল,সৌম্য, সুশ্রী মুখখানা কেন জানি চোখের পর্দায় লেগে আছে। মায়া মায়া কথা, ভেজা ভেজা চোখ। কালো টলমল। মনে হয় শীতের শিশিরে ঢাকা এক খন্ড স্বস্তির ঠিকানা। সারাদিন নানা কোলাহলের মাঝেও বারবার মোবাইলে চোখ রাখি। ম্যাসেজ চেক করি।


 এ এক অসহ্য ভারবাহী যাতনা। প্রতীক্ষার প্রহর যেন আর কাটেনা। লক ডাউন শেষ। সীমিত পরিসরের শ্লোগানে সব কিছুই চলছে। ইরার ফোন আর আসেনা। এটা যে অতি স্বাভাবিক সেটা বুঝতে আমার কেন যে এতদিন লাগলো সেটা ভেবে নিজের উপর নিজেই যারপরনাই লজ্জিত ও বিরক্ত । মেয়েরা হিসেবি হয় জানি। আবেগী হয় তাও জানি। কিন্তু এর মাঝেও এক ধরণের ‘হিসেব’ থাকে। সেটা ঠিক যাদবের পাটিগণিত না। আবার হুবহু এলজাবরা, ত্রিকোনমিতিও না। অনেকটা জ্যামিতির মত। বৃত্ত,ব্যাস,পরিধি, চাপ আরো অনেক কিছুই হিসেবের মধ্যে নিতে হয়!

তিন মাস পর বাড়ী ফিরেছি । মন ভাল নেই। কোন কিছুতেই মন বসে না। স্থানীয় বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ঘরোয়া পরিবেশে সীমিত পরিসরের এক বিয়ের দাওয়াতে গেলাম। বসে আছি চুপচাপ। কোলাহল ভাল লাগেনা। কতক্ষণ পর বাবা,মা এলেন। বললেন, “আয় তোর আংকেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই”। অনিচ্ছা সত্বেও গেলাম। যেয়ে দেখি ট্রেনের সেই আংকেল। আমাকে দেখে হাসলেন। বললেন, “আসো, সবাই মিলে ছবি তুলি”।


 ছবি তুলতে গিয়েই চোখ ফ্রিজ হয়ে গেলো কণে দেখে। এতো সেই ইরা। বুঝতে বাকি রইলোনা পাশে বসা বর সেই ফুল ব্রাইট স্কলার। ততক্ষণে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর ক্লিক ক্লিক শেষ। কালের স্বাক্ষী হয়ে রইলাম ফ্রেমবন্দী হয়ে। কাউকে কিছু না বলে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম সেখান থেকে । ভাবছি, কীভাবে সম্ভব? ইরা নিজেই তো বলেছিলো তার বিএফ আছে। আংকেলকে সে ফোন নম্বরও দেয়নি। অথচ যেচে আমার ফোন নম্বর নিয়েছে। পরে আর যোগাযোগও করেনি।

বেশ কয়েকদিন পর ছোট্ট একটি এস এম এস এলোঃ স্যরি। ইরার।