পরিচারিকা থেকে লেখিকা - শংকর ব্রহ্ম

 

শংকর ব্রহ্ম

গল্প হলেও সত্যি - শংকর ব্রহ্ম

প্রথম পর্ব
(পরিচারিকা থেকে লেখিকা)

১৯৭৩ সালে কাশ্মীর উপত্যকায় জন্ম হয় এক বাঙালি কন্যার। মদ্যপ বাবার (সেনাকর্মী) নিত্য অত্যাচারে চার বছর বয়সে মা তাদের দুই বোনকে নিয়ে চলে আসেন মামার বাড়ি মুর্শিদাবাদ। আবারও বিয়ে করে মা, মেয়েটি বড় হতে থাকে সৎ বাবার সংসারে। ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় আচমকাই শেষ হয়ে যায় তার মেয়েবেলা।

একটা বাচ্চা মেয়ের যখন ফ্রক পরে খেলাধুলো করার কথা, তখন তাকে বসিয়ে দেওয়া হয় বিয়ের পিঁড়িতে। শেষ হয়ে যায় তার “শৈশব,”। শৈশবে খেলার মাঝখান থেকে তাকে উঠিয়ে এনে মণ্ডপে একটা লোকের পাশে বসিয়ে দেওয়া হয়। কিছুই বুঝতে পারছিল না মেয়েটা, ভেবেছিল বোধহয় কোনো পুজো হচ্ছে। তারপর তাকে বলা হল যে ওই লোকটার সঙ্গে তার বিয়ে হয়ে গেছে।তাকে চলে যেতে হবে লোকটির সঙ্গে। তখন মেয়েটার মাত্র ১২ বছর বয়স, স্বামীর ২৬।

বিয়ের প্রথম রাত থেকেই শুরু হয় অত্যাচার।
পতি দেবতাটির ধারণা বউয়ের তো দুটোই কাজ,
সন্তান ধারণ আর রান্না করা। কুড়ি বছর বয়সের মধ্যে মেয়েটি তিন সন্তানের জন্ম দিলো। তখনই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সন্তানদের জীবন তার জীবনের মত হবে না।


১৯৯৯ সালে, ২৫ বছর বয়সে মেয়েটি তার মা আর তিন সন্তানকে নিয়ে দিল্লীগামী একটি ট্রেনে উঠে বসেন।
দিল্লিতে এসে সে বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে শুরু করে। একে অল্প বয়স তার ওপরে কোন গার্জেন নেই, কাজের জায়গা থেকেই নানা রকম কুপ্রস্তাব আসতে শুরু করলো । এই কারণে, নানা বাড়ি ঘুরে শেষ অব্দি সে কাজ পেলো প্রবোধ কুমারের বাড়িতে । অধ্যাপক প্রবোধ কুমার ছিলেন মুন্সী প্রেমচন্দের নাতি।

বইয়ের তাক ঝাড়পোঁছ করতে গিয়ে মেয়েটি মাঝেই মাঝেই তাক থেকে পেড়ে আনতো বই। কিছুক্ষণ বইয়ের পাতার ওপর চোখ বুলিয়ে আবার রেখে দিতো তাকের উপর যথাস্থানে।


এই ঘটনা চোখ এড়ায়নি গৃহকর্তা প্রবোধ বাবুর, যাকে সে তাতুস বলে ডাকতো । শব্দটির অর্থ বাবা, তিনিই তাকে এ নামে ডাকতে বলেছিলেন । একদিন তিনি তার হাতে তুলে দেন তসলিমার লেখা আমার মেয়েবেলা।
“বইটা পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছিল। মনে হয়েছিল, যেন আমার কথাই এখানে লেখা আছে,” বলছিলো সেই কাজের মেয়েটা।

এর কিছুদিন পর, দক্ষিণ ভারত ভ্রমণে যাওয়ার আগে, নিজের ড্রয়ার থেকে প্রবোধ কুমার তাকে একটা ডায়েরি আর পেন দিয়ে যান। বলেন,তাতে তার মনের কথা লিখতে । মেয়ে তো হতবাক, কী নিয়ে লিখবেন সে!

লিখলেন তাঁর হারানো শৈশবের কথা, লিখলেন তাঁর প্রথম সঙ্গমের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা, লিখলেন তেরো বছর বয়সের প্রসব যন্ত্রণার কথা, লিখলেন বছরের পর বছর ধরে নির্যাতনের ফলে শরীরে ফুটে ওঠা ক্ষতের কথা। লিখতে লিখতে ফিরে এল, বোনের স্বামীর বোনের গলা টিপে ধরার অবদমিত স্মৃতি।


প্রথম দিকে বানান, ব্যাকরণ নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু একটু একটু করে তা ঠিক হয়ে গেল। আরো লিখতে থাকলেন।


তিনি পরে বলছেন, “যত লিখতাম, ততই ভালো লাগত। মনে হত যেন অনেক দিনের কোনো ভার আমার বুকের ওপর থেকে সরে যাচ্ছে।”
প্রবোধ কুমার ফিরে এসে দেখলেন, একশো পাতার ওপর লেখা হয়ে গেছে!

এটাই (তার)বেবী হালদারের প্রথম বই – “আলো আঁধারি।”
প্রথম বার পড়ে কেঁদে ফেলেছিলেন প্রবোধ বাবু। যে সমস্ত সাহিত্য-অনুরাগীদের লেখাটি দেখিয়েছিলেন তিনি, তাঁরা অনেকে অ্যান ফ্রাঙ্কের ডায়েরির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন এই লেখাটির।


তারপর সেই লেখা নিয়ে প্রবোধ বাবু বহু প্রকাশকের দোরে দোরে ঘুরলেন। অনেকেই নাকচ করে দেওয়ার পর, শেষ অব্দি কলকাতার একটা ছোট প্রকাশনী “রোশনি পাবলিশার্স ” সেই লেখাটি বই আকারে ছাপতে রাজি হয়।‌

তারপরের ঘটনা –

“একদিন একটা বই দেখিয়ে তাতুস আমাকে বললেন, ‘এটা তোমার বই। তুমি এটা লিখেছ।’ ছাপা বই আমার সামনে হাজির! আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না!”

ঝাড়ুদার থেকে পরিচারিকা,পাশের বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা থেকে আধুনিকা কলেজ পড়ুয়া, বেবী হালদারের কাহিনী তাদের নাড়া দিয়েছিল সকলকেই।


বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ঊর্বশী বুটালিয়া। ২০০৬ সালে বইটি বেস্ট সেলার তালিকায় ছিল।
একুশটি আঞ্চলিক এবং তেরটি বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে বইটি !


আরও দুটি বই লিখেছেন বেবী। লেখা তাঁকে দিয়েছে আত্মপরিচয়, যা আগে ছিলই না।
অর্থনৈতিক ভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মত অবস্থায় পৌঁছে বেবী তাঁর তিন সন্তানকে (সুবোধ, তাপস, পিয়া) নিয়ে কলকাতায় থাকতে আরম্ভ করেছেন।


“এখন আমি বিশ্বাস করি, মানুষ সব পারে। আগে আমি পরিচারিকা ছিলাম। এখন আমি লেখিকা। আমি সবাইকে এটাই বলি যে, শুরু যে কোনো সময়েই করা যায়।” ‌

———————————————–

গল্প হলেও সত্যি
দ্বিতীয় পর্ব
————————
(ঘুগনি বিক্রেতা থেকে জাতীয় কবি)


ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়া এই ঘুগনি বিক্রেতাকে নিয়ে পি.এইচ.ডি করছেন ৫ জন। জেনে নিন তবে, কে ইনি?

ছোটবেলায় অকালে বাবাকে হারিয়ে ছেদ পড়েছিল পড়া-শুনায়, যে স্কুলে পড়তেন তিনি সেখানেই প্রথম শুরু করেন রান্নার কাজ, পরবর্তী কালে খোলেন ঘুগনির দোকান, কিন্তু এর বাইরেও রয়েছে তার পরিচয়, তিনি পদ্মশ্রী পেয়েছেন। জনপ্রিয় কবি, নাম তার হলধর নাগ।


পরণে সাদা ধুতি ও কুর্তা। পিঠ পর্যন্ত লম্বা তেল জবজবে চুল। পায়ে নেই জুতোও। এমন চেহারার ঘুগনি বিক্রেতা স্বাভাবিকভাবেই কারও নজর কাড়ে না৷ কিন্তু অনেকেই জানেন না অত্যন্ত অনাড়ম্বর জীবন কাটানো এই মানুষটি একজন জনপ্রিয় কবি৷
তার ঝুলিতে রয়েছে পদ্মশ্রী সম্মানও।


হলধর নাগের গোটা জীবনটাই গড়িয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। দশ বছর বয়সে বাবা মারা যান, হলধর তখন তৃতীয় শ্রেনীতে পড়েন। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা শিকেয় ওঠে, মিষ্টির দোকানে বাসন ধোয়া থেকে রাস্তায় ঘুগনি বিক্রি করা, এমন অনেক কাজই জীবনে করতে হয়েছে তাকে।
কিন্তু তার প্রতিভা কখনোই জীবনের কাছে হার মানে নি। তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা হলধরের ওপর ছিল মা সরস্বতীর আশীর্বাদ,
তাই যতবারই তিনি কলম ধরেছেন তার হাত থেকে ঝরে পড়েছে সাহিত্যের মণিমুক্তা।


ছোটবেলা থেকেই তিনি কোসলি ভাষায় ছোটগল্প লেখা শুরু করেন। কবিতা চর্চা শুরু করেন একটু বড় হয়ে। ১৯৯০ সালে প্রথম কবিতা ‘ধোদো বরগাছ’ অর্থাৎ বুড়ো বটগাছ স্থানীয় এক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়৷ তারপর তিনি আরো চারটি কবিতা পাঠান ঐ পত্রিকায়। সেগুলোও প্রকাশিত হয় একে একে।


এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি হলধর নাগকে। একের পর এক লেখা প্রশংসা কুড়োয় সাধারণ মানুষ থেকে সাহিত্য সমালোচকদের। তাঁর সমস্ত কবিতা একত্রিত করে ‘হলধর গ্রন্থাবলী’ প্রকাশ করেছে সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়। চলছে এই বই এর দ্বিতীয় পর্বের প্রস্তুতিও। এই মুহুর্তে তার লেখা নিয়ে গবেষণা করছেন ৫ জন।
২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন তিনি। ২০১৯ সালে তিনি সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেয় সাম্মানিক ডক্টরেট। তবু এখনো আগের মতই অনাড়ম্বর জীবন যাপনেই অভ্যস্ত ‘লোক কবি রত্ন’ হলধর নাগ।


পরণে সেই সাদা ধুতি ও কুর্তা। পিঠ পর্যন্ত লম্বা তেল জবজবে চুল। পায়ে নেই জুতোও।
আশ্চর্য এক বিস্ময়কর প্রতিভা নিঃসন্দেহে।


গল্প হলেও সত্যি
তৃতীয় পর্ব

————————————————-
(রাজা থেকে ভিখিরি)

বছর কয়েক আগে মৃ’ত্যু হয় এক রাজার।
রাজার নাম ব্রজরাজ ক্ষত্রিয় বীরবর চমুপতি সিং মহাপাত্র।
যাঁর প্রথম জীবন কেটেছিল অতুল আমোদ প্রমোদে, বিলাস-ব্যসনে। একসময় তাঁর সেবায় অপেক্ষা করত ত্রিশ জন চাকর। তাঁর জন্য দাঁড়িয়ে থাকত পঁচিশটি বিলাসবহুল গাড়ি। তিনি তখন স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি তার শেষ জীবনের করুণ পরিণতির কথা।

১২৪৫ খ্রিস্টাব্দে রাজস্থানের সোম বংশীয় শাসকদের একটি শাখা এসেছিল ওড়িশায়। প্রতিষ্ঠা করেছিল টুং রাজবংশ। প্রথমে পুরীর রাজার অমাত্য‚পরে তিগিরিয়া স্টেটের শাসক হয়ে ওঠেন তাঁরা। সেই বংশেই জন্ম রাজা ব্রজরাজের। কলিঙ্গ থেকে ওড়িশায় পরিবর্তিত পর্বে টিকে ছিল ২৬ টি প্রিন্সলি স্টেট। সবথেকে ছোট তিগিরিয়া। ভারতবর্ষে রাজতন্ত্র লোপ পাওয়ার আগে তিগিরিয়ার শেষ নৃপতি ছিলেন তিনি।
জন্ম ১৯২১ সালে। ব্রিটিশ ভারতের ওড়িশার রাজন্য স্টেট তিগিরিয়ায়।


শোনপুরের রাজকন্যা রসমঞ্জরী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।ছয়টি সন্তানও হয় তাদের।
অভাবে জেরবার হয়ে ১৯৬০ সালে বেচে দিয়ে ছিলেন তাঁর রাজপ্রাসাদ।
তাঁর এই দুঃসময়ে স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে ছয় সন্তানকে নিয়ে তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন।
বিয়ে ভাঙার পরে রসমঞ্জরী রাজনীতিতে এসে হয়ে ওঠেন বিধায়ক। আর ব্রজরাজ ডুবে যান নিদারুণ দারিদ্রে। ভেঙে পড়েন অবসাদে।


স্বাধীনতার পরে ভরসা ছিল বার্ষিক ভাতা। যিনি একসময় অনায়াসে মেরেছেন তেরোটা বাঘ ও আঠাশটা লেপার্ড‚ সেই বীরের হাত পাততে হতো সরকারি দপ্তরে, মাসে এক হাজারেরও কম টাকা পাওয়ার জন্য। ১৯৭৫ সালে বন্ধ হয়ে গেল সেই সরকারি ভাতাও।


এরপর থাকতেন মাটির বাড়িতে উপরে অ্যাসবেস্টাসের ছাদ। বেঁচে ছিলেন গ্রামবাসীদের দয়া-দাক্ষিণ্যে। তাদের দেওয়া ডাল-ভাতে মিটত তাঁর ক্ষুণ্ণিবৃত্তি। এক নৃপতির কী করুণ পরিণতি। ভাবলে অবাক লাগে বইকি।


গল্প হলেও সত্যি

চতুর্থ পর্ব
————————————
(সৈনিক থেকে হাইজ্যাকার)

ফ্রান্সের আর্লি বিমান বন্দর। ১৯৭১ সলের এক উজ্জ্বল সকাল। এয়ার পোর্ট জুড়ে সাজ সাজ রব। জার্মান ভাইস চ্যান্সেলার ফ্রান্সে আসছেন। বিমান বন্দরের বাইরে,ট্যাক্সী করে এসে নামলেন এক দীর্ঘকায় সুদর্শন যুবক।


নাম তার জ্যা কুঁয়ে। কোমড়ে, অন্তর্বাসে আর মোজার ভিতরে গুঁজে রাখা রিভলবারের ভাগ করা আলাদা আলাদা অংশ। ইমিগ্রেশনের সিকিউরিটির মেটাল ডিটেকটারে ধরা পড়ল না সেটা। রান ওয়েতে দাঁড়ানো পাকিস্তানের
PIA – 711 নম্বরের বিমানটি। বেলা তখন সকাল এগারোটা। সিঁড়ি দিয়ে গটগট করে বিমানে উঠে পড়লেন সেই যুবক।


একটু পরেই বিমান ছেড়ে দিল। দশ মিনিট
যেতে না যেতেই অর্লি এয়ার পোর্টের রেডিও বার্তায় খবর ভেসে এলো, আমি বিমানটি ছিনতাই করেছি। আমার শর্ত না মানলে আমি এক্ষুনি বিমানটি উড়িয়ে দেবো, আসার ব্যাগে শক্তিশালী বোমা আছে। অর্লি এয়ার পোর্টের কর্মকর্তাদের মধ্যে তুমুল আলোড়ণ সৃষ্টি হল।
বিমান বন্দরে রেড এলার্ট জারী করা হল।


তারা যোগাযোগ করলেন জ্যা কুঁয়ের সঙ্গে।
তারা জানতে চাইলেন, কি তার দাবী? কেন সে বিমান হাইজ্যাক করেছে?
জ্যা কুঁয়ে জানলেন,বাংলা দেশের মুক্তি যোদ্ধাদের জন্য বিশ টন ওষুধ পাঠাতে হবে,
তাহলেই বিমানটি সে নিরাপদে রানওয়েতে নামতে দেবে। এবং নিরিহ যাত্রীদের কোন ক্ষতি করবে না। কতৃপক্ষ তার কথায় রাজী হলেন। 


কিন্তু কতৃপক্ষের চালাকি ধরতে না পারায় জ্যা কুঁয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়লেও তার কথা মতো বাংলাদেশে, মুক্তি যোদ্ধাদের কাছে ওষুধ পৌঁছে গিয়েছিল। বড় বড় আইনজীবিরা তার হয়ে লড়লেও বিচারে তার পাঁচ বছরের জেল হয়ে যায়। অবশ্য নিষ্ঠা ও নিয়মানুবর্তী মেনে চলার জন্য দু বছর পরই সে মুক্তি পায়। ততদিনে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রর মর্যাদা পেয়ে গেছে।
কিন্ত তিনি তারপর একবারও বাংলাদেশে আসেননি।
কে এই জ্যা কুঁয়ে?


তিনি একসময় ফরাসী সৈনবাহিনীতে কাজ করতেন। সৈনবাহিনীর ধরা বাঁধা নিয়ম তার পছন্দ না হওয়ায়, তিনি সেখান থেকে সেচ্ছা অবসর নেন। তার কিছুদিন পর তিনি জড়িয়ে পড়েন এক কট্টরবাদী সংগঠন (ও এস এ)-এর সঙ্গে। পরে তিনি আন্দ্রে মার্লোর লেখা পড়ে, তার ভক্ত হয়ে ওঠেন। মার্লো ছিলেন উদারপন্থী মানসিকতার লোক। জ্যা কুঁয়েও কট্টরপন্থী সংগঠন ছেড়ে দিয়ে, উদারপন্থী হয়ে ওঠেন। 

মার্লোর লেখা পড়েই তিনি জানতে পারেন, বাংলাদেশ নামক একটি দেশ পাকিস্থানের সঙ্গে থাকতে চাইছে না, তার স্বাধীনতা ঘোষণা করছে।মার্লো সেই স্বাধীনতার সপক্ষে লেখা লিখেছেন। সেটা পড়েই জ্যা কুঁয়ে ভাবতে থাকেন, কি ভাবে বাংলাদেশের মুক্তি যোদ্ধাদের সহয়তা করা যায়? সে ভাবনা ভাবতে ভাবতেই বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা তার মাথায় আসে। যা ভাবা, তাই কাজ। তিনি প্রফেশনাল হাইজ্যাকার ছিলেন না।বাংলাদেশ মুক্তি যোদ্ধাদের সহাযতার করার জন্য, সে সেই প্রথম ও শেষ, বিমান ছিনতাই করার মতো এক দুঃসাহসিক কাজ করে বসেন। তার জন্য জেলও খাটেন।


কিন্তু মার্লোর লেখা পড়ার আগে তিনি বাংলাদেশ নামক দেশটির কথা পর্যন্ত জানতেন না। কোথায় তার ভৌগোলিক অবস্থান তাও তার অজানা ছিল। কোনদিন বাংলাদেশ দেখারও সৌভাগ্য তার হয়নি। এর কথা কি স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষেরা জানেন? মনে রেখেছেন ক’জনে তাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি কোন মর্যাদাও পাননি সেখান থেকে। তিনি যা করেছেন, তা করেছেন তার হৃদয়ের টানে। এমন মানুষের বড় অভাব আজকের দিনে।



#bangladesh #westbengal #banglasahitya #sahityashruti