গল্পের যাদুকর মোপাসাঁ - শংকর ব্রহ্ম


story and article


যাঁকে আধুনিক ছোটগল্পের অন্যতম জনক মনে করা হয়, তিনি উনিশ শতকের বিখ্যাত ফরাসি কবি, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক গী দ্য মোপাসাঁ। তাঁর পুরো নাম হেনরি রেইনে আলবার্ট গি দ্য মোপাসাঁ।

তাঁর জন্ম ১৮৫০ সালের ৫ আগস্ট ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে। তাঁর পিতার নাম গ্যুস্তাভ দ্য মোপসাঁ এবং মায়ের নাম লোর ল্য পোয়াতভাঁ।

এগারো বছর বয়সে তাঁর বাবা এবং মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পরে তিনি মায়ের সঙ্গেই থাকতেন।

তিনি স্বল্পভাষী লাজুক স্বভাবের ছিলেন। মায়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনেকখানিই প্রভাব ফেলেছিল তাঁর উপর। তাঁর মা দুরারোগ্য ব্যাধি ম্যালানকোলিয়ায় ভুগতেন। তার বাবা-মায়ের এই বিচ্ছেদ আর মায়ের এই অসুস্থতা - এই দুই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতাই তাঁকে সাহিত্যচর্চার দিকে ধাবিত করে তুলেছিল।

মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান বলে লেখাপড়ার সুযোগ কিছুটা পেয়েছিলেন । তিনি স্থানীয় একটি চার্চে পড়াশোনা করতেন। ১৮৬৭ তিনি একটি নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৬৯ সালে মোপাসাঁ প্যারিসে আইন পড়তে যান। তবে শীঘ্রই তাকে পড়াশোনা ছেড়ে মাত্র কুড়ি বছর বয়সে ফরাসি-প্রুশীয় যুদ্ধের কারণে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয় । এরপর ১৮৭৩ সালে সামরিক বিভাগে কেরনীর চাকরী পেলেন মোঁপাসা। ১৮৭৩ সাল থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত তিনি সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে ফ্রান্সের নৌ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কেরানীর কাজ করেন।

কিন্তু অবসরের অধিকাংশ সময়টাই কাটতো তাঁর স্যেন নদীতে জল-বিহার করে, অথবা সাহিত্য গুরু গুস্তার্ফ ফ্লোবেয়রের সঙ্গে সাহিত্য আলোচনা করে।প্রকৃত পক্ষে ফ্লবেয়রই এই সময় তাঁকে সাহিত্য চর্চায় তালিম দিতে থাকেন।

ফ্লবেয়রের বাড়িতে তখন রীতিমতো সাহিত্যের আড্ডা বসতো। সেখানে আসতেন, ফ্রেদরিক বেঁদ্রি, ক্লদিয়স পপলিন,আলেকজান্ডার দঁদে প্রমুখেরা। মাঝে মাঝে রাশিয়া থেকে আসতেন আইভান তুর্গেনিভ। আর ১৮৭৪ সাল থেকে আসতেন এমিল জোলা। ক্রমে জোলাকে ঘিরে পাঁচজন তরুণ সহিত্যিকদের একটি গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্যেন নদীর তীরে জোলার মেদাম গ্রামের বাড়িতে এই ' মেদাম-গোষ্টী'-র আসর বসতো।

আসরে সামিল হতেন - পল অ্যালেকসি, জোরিস কার্ল উসমান, হেনরি সেয়র্ভ, লিয়ন হেনিক ও মোঁপাসা। এরা সকলে মিলে একটি গল্প সংকলন প্রকাশ করেন, যার নাম 'লা সয়ার দ্য মেদান' (Less Sovress de Medan) । ১৮৮০ সালের কথা সেটা।

সংকলনের প্রথম গল্পটি ছিল এমিলি জোলার।

কিন্তু পরে জোলা স্বীকার করেছেন, সংকলনের

সেরা গল্পটি লিখেছে মোঁপাসা।

এখানে মোপাসাঁর প্রথম বড় গল্প 'ব্যুল দ্য সুইফ' (Boule de Suif) - ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধের পটভুমিতে একজন বেশ্যার কাহিনী প্রকাশিত হয়। সেটাই তাঁকে লেখক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। আজও এই গল্পটিকে মোপাসাঁর সেরা একটি গল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৩৪ সালে এই গল্প থেকে নির্মাতা মিখাইল রম একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছিলেন।

স্কুলে পড়ার সময়ে ১৮৬৭ সালে তিনি প্রথম গুস্তাভ ফ্লবেয়র সঙ্গে দেখা করেন। গুস্তাভ ফ্লবয়র তাঁর মায়ের বন্ধু ছিলেন। মূলতঃ তার মা-ই তাকে গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের সঙ্গে দেখা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। কেননা, তাঁর মা স্পষ্টভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন মোপাসাঁর সাহিত্যপ্রীতির কথা। আর তিনি নিজেও সাহিত্যের একজন সমজদার ছিলেন। মোপাসাঁর মায়ের প্রিয় লেখক ছিল উইলিয়াম শেক্সপিয়ার।

ফ্লবেয়ারের সঙ্গে মোপাসাঁর এই সাক্ষাৎ তাঁর পরবর্তী জীবনেও প্রভূত উপকার এনে দিয়েছিল, অর্থাৎ নানাভাবেই ফ্লবেয়ার তাঁর প্রতি সদয় হয়েছিলেন। ফ্লবেয়ারের এই পাশে দাঁড়ানো তাঁর জীবনের প্রায় প্রধানতম এক ঘটনা।

ফ্লবেয়ারের সাহায্যেই মোপাসাঁ নানান পত্র-পত্রিকায় নিজের নামে ছোটগল্প আর আর্টিকেল প্রকাশ করতে আরম্ভ করেছিলেন। মোপাসাঁকে তিনি নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন আর সত্যিকার অর্থেই তাঁর অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন। ফলে মোপাসাঁর সাহিত্য এবং সাংবাদিকতার শুরু এই লেখকের হাতে হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। পরবর্তীতে গুস্তাভ ফ্লবেয়ার, এমিল জোলা, আলফস দোঁদে-দের উত্তরসূরী তিনি।

১৮৮০ সালে একটি কাব্যগ্রন্থ 'De Ver' প্রকাশের মধ্যে দিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন।

১৮৮৩ সালে আরেকটি বিখ্যাত গল্প প্রকাশিত হল, মাদমোয়াজেল ফিফি।

১৮৮১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গল্প সঙ্কলন " La Maison Tellier". ১৮৮৩ খ্রিঃ প্রকাশিত হত তাঁর প্রথম উপন্যাস "Une Vie". এই উপন্যাসটি পরবর্তীকালে "A Woman's Life" নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। এবং প্রকাশের এক বছরের মধ্যে ২৫০০০ কপি বিক্রি হয়।

উপন্যাসটি সরকারি রোষানলের শিকার হল।

মোপাসাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস " Bel Ami" প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। ১৮৮৮ সালে প্রকাশিত হয় তার বিখ্যাত উপন্যাস "Pierre et Jean".

ছোটগল্পকার হিসেবে তিনি যতটা পারদর্শী ছিলেন, উপন্যাসে ততটা ঋজুগতি ধরে রাখতে পারেননি। মাত্র এক দশক সাহিত্যচর্চার সুযোগ পান মোপাসাঁ।

সাহিত্যের নানান ধারায় কাজ করলেও তিনি মূলত ছোটগল্পকার হিসাবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তাঁকে ছোটগল্পের যাদুকর বলা হয়।

বিশেষত, ফরাসি-প্রুশিয় যুদ্ধের দুর্বিষহ সব চিত্রকে তিনি তুলে ধরেছিলেন তার লেখালেখির মাধ্যমে। এই যুদ্ধে যেই সাধারণ মানুষেরা আক্রান্ত হয়েছিল তাদের দুর্বিষহ পরিণতির কাহিনী তিনি বলেছিলেন।

চমকপ্রদ ও চাতুর্য-পূর্ণ গল্পের প্লট রচনা তাঁর লেখার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। তাঁর গল্পে অতিবাস্তবতা, কল্পনা, অতিপ্রাকৃতিক, মনস্তাত্ত্বিক বিষয়সহ বিভিন্ন মানবিক সঙ্কটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ছোটগল্পকার হিসেবে যতটা সফল ছিলেন, ঔপন্যাসিক হিসাবে তিনি ততটা সফল হতে পারেননি। তিনি মাত্র এক দশক সাহিত্যচর্চার সুযোগ পান। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি প্রায় তিনশ ছোট গল্প, ছয়টি উপন্যাস, বেশ কিছু কবিতা এবং তিনটি ভ্রমণকাহিনী লেখেন।

একনজরে মোপাসাঁ'র রচনা সম্ভার:

কাব্যগ্রন্থ:

Des Vers (1880)

গল্প সঙ্কলন:

1.La Maison Tellier (1881)

2.Mademoiselle Fifi (1883)

3.Contes de la Bécasse (1883)

4.Miss Harriet (1884)

5.Les Sœurs Rondoli (1884)

6.Clair de lune (1884)

7.Yvette (1884)

8.Contes du jour et de la nuit (1885)

9. Monsieur Parent (1886)

10.La Petite Roque (1886)

11.Toine (1886)

12.Le Horla (1887)

13.Le Rosier de Madame Husson (1888)

14.La Main gauche (1889)

15.L'Inutile Beauté (1890)

উপন্যাস:

1.Une Vie (1883)

2.Bel-Ami (1885)

3.Mont-Oriol (1887)

4.Pierre et Jean (1888)

5.Fort comme la mort (1889)

6.Notre Cœur (1890)

ভ্রমণ কাহিনী:

1.Au soleil (1884)

2.Sur l'eau (1888)

3.La Vie errante (1890)


তিনি ছোটগল্প সম্পাদনা করেন -

১).দ্যা ডায়মন্ড নেকলেস

২).আফটার

৩).এ্যাট সী


১৮৮৮ সালে তার ছোট ভাই হার্ভে উন্মাদ হয়ে যাওয়ার পর মোঁপাসা খুব মুষড়ে পড়েন। তাঁর মনেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তিনিও অচিরেই পাগল হয়ে যাবেন। তাঁর চুল উঠে যাচ্ছিল। মাঝে মাঝে বুকে ব্যথা হতো। স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

গায়ে চর্মরোগ দেখা দেয়।

ব্যক্তি জীবনে তিনি নিয়ম-শৃঙ্খলা মানতেন না। বহুনারীর ঘনিষ্ঠতা লাভের পরও তিনি অতৃপ্ত ছিলেন। কেউ তাকে তৃপ্তি ও শান্তি দিতে পারেনি মনে। পরবর্তী কালে দেহের কিছুটা পঙ্গু হয়ে যায়।

একটা চোখ নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হন, যা তাকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। শেষে মারাত্মক মানসিক বৈকল্যের শিকার হয়ে ১৮৯২ সালের ২ জানুয়ারি কন্ঠনালী কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ডাক্তার ব্লাস তাঁকে নিজের স্বাস্থ্য নিবাসে নিয়ে আসেন। সেখানে তাঁর দেড় বছর কাটে।

তারপরে, জুলাই মাসের ৬ তারিখে এই লেখকের প্রয়াণ ঘটে।অর্থাৎ ১৮৯৩ সালের ৬ই জুলাই, মাত্র ৪৩ বছর বয়সে, মারা যান এই প্রতিভাবান সাহিত্যিক।


পাঠকদের জন্য গী দ্য মোপাসাঁর কিছু বিখ্যাত উক্তি এখানে প্রকাশ করা হলো। সে'গুলো পড়লেই বোঝা যায় , মোপাসাঁ একই সঙ্গে যেমন ছিলেন প্রেমিক মানুষ, তেমনই ছিলেন মানবতার প্রতি পরম অনুরাগী একজন লেখক।


#


জীবন প্রসঙ্গে মোপাসাঁ লিখেছেন -

১). ‘জীবনকে অর্থবহ করে তুলবার জন্যই এই জীবনের লড়াই’।


২). একটা বৈধ চুম্বন ততো মূল্যবান নয়, যতোটা মূল্যবান একটা চুরি-করা চুম্বন।


৩). চুম্বন ব্যাপারটাই এক অমর ঘটনা। পর্যটকের মতো এটা ঘুরতে থাকে মানুষের ঠোঁট থেকে ঠোঁটে, এক শতবর্ষ থেকে আরেক শতবর্ষে, অনতিগম্য সময়কাল ধরে। নারী এবং পুরুষ উভয়েই এই চুম্বনকে অর্জন করে, তারপরে একে অপরকে সেটি প্রদান করে, তারপরে পালা করে মারা যায়।


৪). দেশপ্রেম জিনিসটা ধর্মের মতো। যেসব যুদ্ধগুলো ডিম পাড়ে, এটা তাদেরই একটা ডিম।


৫). মিলিটারীরা হলো পৃথিবীর চাবুক।


৬. আমাদের শ্বাসক্রিয়া, ঘুম, পানাহার, কাজকর্ম এবং স্বপ্ন, এইসকল কিছুর মানে একটাই—মৃত্যু। এমনকি বেঁচে থাকা মানেও মৃত্যুই।


৭). অতীত আমাকে আকর্ষিত করে আর বর্তমান আমাকে আতঙ্কিত করে। কেননা ভবিষ্যতের অর্থ হলো মারা যেতে হবে।


৮). প্রকৃতপক্ষেই নিঃসঙ্গতা আমাদের চিন্তাপ্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। আমাদের চারপাশে সেসকল মানুষদের থাকার প্রয়োজন আছে যারা ভাবতে এবং কথা বলতে জানে। যখনই আমরা দীর্ঘকালের জন্য নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ব, তখনই আমাদের পরিণতি হবে কার্য-কর্মহীন প্রেতাত্মার মতো।


৯). সবকিছু মিথ্যা। সবকিছু সম্ভব। এবং সবকিছুই সন্দেহজনক।


১০). কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা জ্বরাক্রান্তির চাইতেও বরং একটা অসুস্থ চিন্তাই মানুষের শরীরকে আরো ভয়ঙ্করভাবে গ্রাস করে থাকে।


১১). জীবনে একটাই মাত্র ভালো ব্যাপার রয়েছে, সেটা হলো ভালোবাসা।


১২). আমি যদি পারতাম, সময়ের এই বয়ে চলাকে আমি থামিয়ে দিতাম। কিন্তু ঘড়িতে ঘণ্টাগুলো তো ঘণ্টাগুলোর পরে বয়েই চলল, আর মিনিটগুলোও চলল মিনিটগুলোর পিছে পিছে। মূলত প্রত্যেকটা সেকেন্ডই আমার সত্তার সূক্ষ্মতম একাকিত্মগুলোকে হরণ করে নিচ্ছে—কেবল আগামীকালকের ‘কচু’টাকে বাস্তবায়ন করবার জন্য। যদি আমি বর্তমানের এই সময়ের এই অনুভূতিটিকে পুনরায় আবার পেতাম!


১৩). ভালোবাসায় অসুখী থাকা বরং ভালো, বিয়ে করে অসুখী থাকার চাইতে। অবশ্য কেউ কেউ উভয়টাকেই বাগে এনে ফেলতে পারে।


১৪). কথোপকথন ব্যাপারটা আসলে কী? আসলে মিস্ট্রি! এটা এমনই এক শিল্প, যা কখনোই একঘেয়েমি হয়ে ওঠে না। এটা চলতে থাকে প্রত্যেকটা নতুন বিষয়কে ছুঁয়ে ছুঁয়ে, খুঁটিনাটি যত আনন্দকে সঙ্গে করে। যেন কিছুই নেই, তবু এই না থাকারই বিমোহনের মধ্য দিয়ে তার যাত্রা।


১৫). তারাই মহৎ শিল্পী, যারা মানবতাকে নিজের চিন্তার ওপরে আরোপ করতে পারে।


১৬). ভাষা মূলত একটা ছলকলা, আর অতিব ঝলসানো এক ব্যাপার। কেননা এটা মানুষের মুখমণ্ডলের ওপরে থাকা এক মুখোশ। আমরা দেখতে পাই এটা মানুষের ঠোঁট দিয়ে বের হয়ে আসছে, আর সেই ঠোঁটগুলোই মানুষের চোখকে আমোদিত করছে। কিন্তু সাদা কাগজের ওপর যেইসব শব্দ আর বাক্য, কালো কালো, মূলত সেগুলোই মানুষের ভিতরকার সত্তাকে প্রকাশ করতে পারে।

-------------------------------------------

* ঋণস্বীকার - সুশান্ত কর্মকার।


#storyandarticle


https://storyandarticle.com