লেখক হওয়ার কারণ - শংকর ব্রহ্ম

 
শংকর ব্রহ্ম

লেখক সকলে হন না। কেউ কেউ লেখক হন। শখ করে যে কেউ লিখতে পারেন। তা’তে কিছু আসে যায় না।
কোনও কোনও মানুষ পরিবেশ ও পরিস্থিতির চাপে পরে লেখক হন।
বিদেশী লেখকদের মধ্যে ডস্টয়ভক্সির কথা যদি ধরি।

ডস্টয়ভক্সির মতোন লেখক, পরিস্থিতির চাপে না পড়লে তিনি কখনও এক লাইনও লিখতেন না, এ কথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন সেচ্ছাচারী ও মদ্যপ এবং জুয়ারী। জুয়া খেলে হেরে গিয়ে,বন্ধু বান্ধবদের কাছে অনেক ঋণ হয়ে গেলে পরে, তিনি সেই ঋণ শোধ করার জন্য, দশ পনেরো দিন সেচ্ছা-নির্বাসন নিয়ে, ঘরবন্ধী হয়ে থেকে , এক-একটা বিখ্যাত উপন্যাস লিখেছেন, প্রকাশকদের তাগিদে।

লেখা শেষ করেই,তা প্রকাশকের কাছে জমা দিয়ে, সঙ্গে সঙ্গে নগদ প্রাপ্তি বুঝে নিয়ে আবার এসেই, তা দিয়ে আবার জুয়া খেলায় মেতেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না কপর্দক শূন্য হয়েছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আর তিনি কোন লেখার কথা ভাবতেন না। হাতের প্রাপ্ত অর্থ সব ফুরালেই, তবে তিনি আবার নতুন লেখার কথা ভাবতেন,এবং তা শুরু করতেন।

এবার আসি আমাদের রবীন্দ্রনাথের কথায়।
তাঁরও লেখক হওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ ছিল, তাঁর শিশুকালের নিঃসঙ্গতা ( বাবা ও মা কারও সান্নিধ্য না পাওয়া ও গৃহপরিচারকের কাছে শিশুকালের দিনযাপনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা) ‘জীবনস্মৃতি’ পড়ে তা জানা যায়।

নজরুলের লেখক হওয়ার পিছনে ছিল তাঁর জেল যাপন, ও বিদ্রোহী মনোভাব।

শরৎচন্দ্রের লেখক হওয়ার কারণ ছিল,
অসহায় মানুষের হৃদয়ের আর্তি , যারা মুখের ভাষায় তা প্রকাশ করতে পারত না,তাদের মুখে তা প্রকাশ করার দায়িত্ব স্বেচ্ছায় শরৎচন্দ্রকে নিতে হয়েছিল।

সুকান্তেরও কারণ ছিল তাঁর চারপাশের সেই সময়কার শ্রমিক কৃষকের উপর অনাচার-অবিচারের প্রতিবাদ করা।
জীবনানন্দেরও ছিল অসহায় নিঃসঙ্গতা, তাঁর লেখা-লেখি করার অন্যতম কারণ।
সুনীল গাঙ্গুলী প্রথম জীবনে জাহাজের খালাশি হয়ে দেশ বিদেশ ঘুরবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু হয়ে গেলেন লেখক পরিস্থিতির চাপে।

সুনীল গাঙ্গুলীরও প্রথম উপন্যাস লেখার কারণ ছিল, তাঁর ভাষায় ‘সাগরদার( সাগরময় ঘোষ) আদেশ ‘দেশ শারদীয়া’ সংখ্যায় প্রথম উপন্যাস লেখার জন্য। যা অমান্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না।’
তার কারণ সেখানেই নিয়মিত ফিচার লিখে তাঁকে সংসার চালানোর খরচ জোগার করতে হতো। দু-একটা টিউশনি যা করতেন তাতে
চা সিগারেট ও কফিহাউজের খরচও উঠতো না ঠিকমতো।


দেশ শারদীয়া সংখ্যায় প্রথম উপন্যাস বের হয় ‘আত্মপ্রকাশ’।
তারপর আর উপন্যাস লিখবেন না বলে তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
কিন্ত সে প্রতিজ্ঞা তিনি রাখতে পারেন নি।
দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অরণ্যের দিন রাত্রি’ ঘরোয়া নামে একটি পত্রিকায় লিখতে বাধ্য হন, তাঁর নিজের পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’-এর প্রেসের দু-তিন সংখ্যার ছাপার খরচ শোধ করার শর্ত হিসাবে।

সেই লেখা পড়ে সত্যজিৎ রায় আলোড়িত হয়ে
তাকে চলচিত্রে রূপায়ন করেন।

এর পর আর সুনীল গাঙ্গুলী তাঁর কলম থামাতে পারেননি পাঠদের ক্রমাগত চাহিদার ফলে। ফলে দেখা যাচ্ছে, তিনি বাধ্য হয়েই একপ্রকাশ লেখক হয়েছেন, স্বেচ্ছায় নয়।

কবি হতে চাইনি
শংকর ব্রহ্ম
““““““““““`´´´´´´´´´´´´´´´
[ প্লেটোর ´ আদর্শ সমাজ ` থেকে কবির নির্বাসন প্রসঙ্গে ]

বিশ্বাস করুন হুজুর আমি কবি হতে চাইনি
কবিতা লেখার কোন বাসনাই ছিল না আমার

দায়িত্ব এবং অভাব
দু কাঁধে জোয়ালের মতো চেপে বসে
ছেলেবেলা থেকেই
এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্ত অনেক ঘুরিয়ে মেরেছে
ফলে দেখেছি অনেক কিছু
বুঝেছি এত যে কম তার
তাই নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেছি বারবার
সে সব নিগূঢ় কথা শুনবে কে আর
সে সব কথাই লিখেছি ডাইরীর পাতায়
সে সব কবিতা হলে আমার কি দায় ?

বিশ্বাস করুন হুজুর আমি কখনোই কবি হতে চাইনি |


#storyandarticle

https://storyandarticle.com