কপি করা লেখা ও সংকলিত লেখা এক নয়। প্রভাষক_একাব্বর_রসায়নবিজ্ঞান।

 
story and article

যে কোন লেখা যদি মৌলিক লেখা হয় তবে সেই লেখার স্বত্ত্ব অবশ্যই থাকতে পারে, এক্ষেত্রে কপিরাইট আইন অবশ্যই প্রযোজ্য।

তবে যদি জাতীয় – আন্তর্জাতিক কোন লেখার প্রেক্ষাপট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়ে থাকে, তবে সেই লেখার স্বত্ত্ব কপি করা যাবে না – বিষয়টি নিয়ে ভাববার আছে। তবে হ্যাঁ হুবহু কপি পেস্ট করা আইনত ঠিক নয়।

কারণ শিরোনাম বদলিয়ে একই প্রসঙ্গের লেখা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক‌ ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। শিরোনাম একই না হলেও লেখার প্রসঙ্গ কিন্তু একই হয়ে থাকে এবং সেই একই প্রসঙ্গের লেখা বিভিন্ন মিডিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে কপিরাইট স্বত্ত্ব প্রযোজ্য উল্লেখ করে প্রকাশিত হয়।

এখন প্রশ্ন হলো তাহলে একই প্রসঙ্গের লেখাগুলো যারা প্রকাশ করছেন তারা কি কপিরাইট স্বত্ত্ব মেনে চলছেন ? উত্তর অবশ্যই না।

কারণ বিশ্বজুড়ে যখন কোন খবর ভাইরাল হয় তখন সেই একই খবর ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়, সঙ্গে কপিরাইট স্বত্ত্ব জুড়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়টি কি ধরনের কারসাজি তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে।

ইতিপূর্বে সিনেমা কিংবা ভিডিও পাইরেসি নিয়েও অনেক আন্দোলন-লেখালেখি হয়েছিল কিন্তু সে সময় ভিডিও পাইরেসি আইন করেও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

যে কোনো লেখা অনুমতি না নিয়ে হুবহু কপি করা অবশ্যই দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে লেখকের ব্যক্তিসত্তা কিংবা লেখক হিসেবে নিজের অস্তিত্ব বলতে কিছুই থাকে না।

কিন্তু লেখালেখিতে সংকলিত বলতে একটা শব্দ আছে। হুবহু কপি না করে সংকলন করে সংকলিত আকারে লেখা উপস্থাপনের অবশ্যই একটা প্রক্রিয়া আছে। এক্ষেত্রে যে কোন লেখার প্রসঙ্গ একই হলেও উপস্থাপনাটা অবশ্যই ভিন্ন হতে হয় কিংবা ভাষাগত ভিন্নতা থাকে। এই ধরনের সংকলিত লেখাকে অবশ্যই কপিরাইট আইন ভঙ্গ বলে ধরে নেওয়া আদৌ যুক্তিযুক্ত হবে কিনা তা নিয়ে আমার সংশয় আছে !

এমনকি একই প্রসঙ্গের লেখা ভাষাগত পার্থক্য থাকলে সংকলিত লেখা উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে বলেও আমার মনে হয় না। কারণ একই খবর ভিন্ন ভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ করে যে যার মত কপিরাইট শর্ত জুড়ে দিচ্ছে,তাহলে সংকলিত শব্দটা তারা ব্যবহার করছেন না কেন ?

পৃথিবীজুড়ে এক‌ই খবর ঘুরপাক খায়। আর ভাইরাল খবর তো ভাইরাল হতেই থাকে। ভাইরাল হওয়ার কোনো শেষ নেই। অনুসন্ধিৎসু,গবেষণামূলক, তথ্য ভিত্তিক লেখার জন্য অবশ্যই সংকলন শব্দটার মিশ্রণ প্রয়োজন। তথ্য-উপাত্ত ছাড়া সেইসব লেখার গাঁথুনি শক্ত ও মজবুত হয় না।

তবে সেক্ষেত্রে উপযুক্ত তথ্যসূত্র উল্লেখ করা প্রয়োজন

আবার কিছু কিছু লেখার সূত্র অনেক সময় মিলে না কিংবা মূল লেখকের পরিচয় অজ্ঞাত অথবা জানা সম্ভব হয় না কিন্তু সেই সব জনপ্রিয় লেখাগুলো ঈষৎ পরিবর্তন ও পরিমার্জন প্রয়োজন হয়ে থাকে।এই ধরনের লেখার ক্ষেত্রে সংগৃহীত ও ঈষৎ পরিমার্জিত উল্লেখ করে প্রকাশ করা যেতেই পারে নতুবা লেখাগুলো এক সময় কালের গর্ভে হারিয়ে যায়।

একমাত্র মৌলিক লেখা বলতে উপন্যাস,কবিতা কিংবা প্রবন্ধ হতে পারে। তবে এই ধরনের লেখাও অনেক লেখক, অন্য কোন লেখকের লেখা হতে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছেন। তার অনেক প্রমান আছে।

মূলকথা প্রায় সব ধরনের মিডিয়ায় লেখার শেষে কপিরাইট স্বত্ব প্রযোজ্য লেখা থাকে কিন্তু সেই একই লেখা আবার অন্য কোথাও দেখা যায়।

তাহলে কপিরাইট স্বত্ব কিভাবে তারা মেনে চললেন আমার বোধগম্য হয় না !

তবে একথা পরিষ্কার যে, যে কোন লেখার হুবহু কপি পেস্ট লেখা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য লেখা নয়। তবে সংকলিত লেখাও কখনো কপি পেস্ট লেখা নয়, এটাও সত্য। সংকলিত লেখার প্রচলন লেখালেখির ক্ষেত্রটা প্রসারিত হয় এবং অনেক মানুষের কাছে পৌঁছার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়।


#storyandarticle


https://storyandarticle.com