অভাবের ঘর, মা-সারাদিন মুড়ি ভাজা, রান্না,জমির মুনিষ দের খাবার জোগাড় করতে ব্যস্ত।

 


জীবনে অন্তরালে।

উৎপল মুখার্জি
তাং ১৪/১১/২০২২

তাপসী বিভ্রান্ত, জৌলুস কমে আসছে, এদিকে ছন্নছাড়া উদভ্রান্ত স্বামীর অক্ষমতা ক্রমশঃ সহ্যের বাহিরে চলে যাচ্ছে। সারাদিন সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকে। কর্মে অপ্রযোজ্য কে প্রযোজ্য করে দিন কাটায়,একটি ছেলে বিয়ের চার বৎসর পরে হয়েছে,কালা বাধক,অপহ্য পেটের যন্ত্রনা নিয়ে মাসে দু দিন রজঃস্রাব ঘটতো। বাড়ীতে কেউ জানতে বাকী থাকতো না তার অশুচি হওয়ার দিনগুলি,তারপর লেখাপড়া? অভাবের ঘর, মা-সারাদিন মুড়ি ভাজা, রান্না,জমির মুনিষদের খাবার জোগাড় করতে ব্যস্ত। তিন ভাই, তিন বোনের সংসার, দু দিদির বিবাহ হয়ে গেছে। দুই ভাই চাকরী করে,বাবা কন্ট্রাকটরের অধীনে হিসাব
রক্ষক,দাদারা কিছু দিন হলো চাকরী পেয়েছে।

জন্মে ছোট মেয়ে , অবসন্নতায় অপুষ্টি তে ভরা, সাদা বা কোটা রং এর গাত্র। সব দিদির বিয়ে হবার পর তাপসী র বিবাহের জন্য যখন উঠে পড়ে লেগেছে ওর মা , হঠাৎ একজনের সঙ্গে দেখা শোনা শুরু হয়, পাশের মফঃস্বলের গ্রামে সরকারী চাকরী করা চব্বিশ বৎসরের ছেলের সঙ্গে বিবাহ ঠিক হয়। বিবাহ হয়ে গেলেও বছর চারেক ঐ কালা বাধকের জন্য দুজনে সহবাসে মিলিত হলেও,বাচ্চা তিন মাসে অথবা চার মাসে খসে যেত,বিলাস বহু ডাক্তার দেখালেও তার নাড়ির দোষের জন্য ই বাচ্চা আসত না।বিলাসের মা সিংহবাহিনী মন্দিরের মহিলা পুরোহিত কে দিয়ে রাজগ্ৰামের , বাঁকুড়া জেলার, জয়পুর সন্নিকটে, ঠাকুরের কৃপায় একটি বাচ্চা হয়।তাপসীর শশুর ঘরে তবে ই শান্তি ফিরে আসে।তা না হলে হয়তঃ বাঁজা নামে সবাই ডাকতে শুরু করতো।

পরে স্বামীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে,স্বামী-স্ত্রী জীবনে কোন দিন অশান্তি ঘটে নি।

হঠাৎ অল্প বয়সেই বিলাসের যৌবনী সুধা কোন বিশেষ কারনে সহবাস অক্ষম হতে লাগলো।তাপসী প্রায় কয়েক বৎসর নীরবে সহ্য করার পর ওর বাপের ঘরের ছাত্রজীবনের বন্ধু সন্দীপের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে আবদ্ধ হলো,তখন বিলাস তার নিজের বাড়িতে ই স্থানান্তরিত হয়েছে,ডাক্তারী চলছে,প্রেসার,ও মানসিক রোগের ঔষধ খেতে হয়।ক্রমান্বয়ে দুর্বল ও চিন্তাগ্ৰস্থ হয়ে পড়লো। এদিকে স্বামীসেবা, পরকীয়া হয়ে চতুর্দিকে ভালোবাসা বিতরন করা তার কাজ হয়ে উঠলো।

হঠাৎ হঠাৎ রাতে সন্দীপের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, খোলাখুলি হাসি তামাশা বিলাসের ঘরে চলতে থাকলো,এসব দেখে বিলাসের মা বৌদি র সঙ্গে ঝগড়া হত।