রীতিমতো গর্ব করার মতো তিনটি পত্রিকা 'দামোদর', 'সকলের কথা' এবং 'প্রগতি'।

 

Story and article


গর্বের লিটল ম্যাগাজিন 

  ☘️

তৈমুর খান 

🪴


রীতিমতো গর্ব করার মতো তিনটি পত্রিকা 'দামোদর', 'সকলের কথা' এবং 'প্রগতি'। যাঁরা লিটল ম্যাগাজিনের কদর বোঝেন, তাঁরা জানেন সাম্প্রতিক এই তিনটি ম্যাগাজিন কতটা সমৃদ্ধ এবং উন্নত রুচির পরিচায়ক। বিজ্ঞাপনহীন উন্নত মানের কাগজে ছাপানো এবং সুপরিকল্পিত রচনা বিন্যাস যারপরনাই একজন পাঠককে আগাগোড়া মুগ্ধ করে রাখবে।

 🌿

 আত্মপ্রকাশ সংখ্যা 'দামোদর'(জানুয়ারি ২০২২) প্রকাশের কারণ উল্লেখ করে দীর্ঘ সম্পাদকীয় লেখা হয়েছে। কবি গৌতম বসুকে নিয়ে একটি সংখ্যা করার পরিকল্পনা থেকেই এই পত্রিকার আবির্ভাব। কিন্তু পরবর্তীতে অঙ্গীকারও আছে:"দামোদর বছরে একটিই মাত্র সাধারণ সংখ্যা নিয়ে হাজির হবে। কেউকেটা হয়ে ওঠবার জন্য নয়, গাছ হয়ে ওঠবার জন্য।" কবিতার পত্র-পুষ্পশোভিত গাছ যে এই পত্রিকা তা প্রথম সাক্ষাতেই প্রমাণ দিয়েছে। কবিতা এবং কবিতা বিষয়ক গদ্য এই পত্রিকার প্রধান বিষয়। সুতরাং দীর্ঘ কবিতা, গুচ্ছ কবিতা, অনুবাদ কবিতা, কবির সাক্ষাৎকার, কবিকে স্মরণ এবং কবিতা বিষয়ক নানা গদ্য। কবি গৌতম বসুর গুচ্ছ কবিতা নিয়ে পত্রিকা শুরু হয়েছে। "আরও একবার,কম্পন, তুমি আমায় অসময়ে ছুঁলে," একান্ত অভিনিবেশে পাঠ করতে করতে আমরা তাঁর বোধের ভেতর প্রবেশ করতে পারি। গৌতম বসুকে স্মরণ করে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছেন স্বপন চক্রবর্তী এবং কুণাল বিশ্বাস। সাতের দশকের কবি গৌতম বসু কতখানি অপ্রতিরোধ্য এবং সর্বব্যাপী ছিলেন তা লেখা দুটিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কবি শ্যামলবরণ সাহার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিত্যানন্দ দত্ত। আশির দশকের গুরুত্বপূর্ণ কবি শ্যামবরণ। বাংলা কবিতার নিভৃতিতে আত্মস্ফুরণের এক গভীর তাৎপর্য নিয়ে তিনি বর্তমানেও সচল। সাক্ষাৎকারটিতে তাঁর কবিতা বিষয়ক বহু দিক উন্মোচিত হয়েছে। এই সঙ্গে তাঁর দশটি কবিতাও পাঠকের কাছে বড় প্রাপ্তি। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগুলি লিখেছেন গৌতম চৌধুরী, কৌশিক বাজারী, পার্থজিৎ চন্দ, শৌভ চট্টোপাধ্যায়। গুচ্ছ কবিতায় পল্লব ভট্টাচার্য, পঙ্কজ চক্রবর্তী, শাশ্বতী সরকার এবং তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়। প্রতিটি কবিতাই অসাধারণ। দীর্ঘ কবিতা লিখেছেন শুভম চক্রবর্তী এবং উজ্জ্বল ঘোষ। অনুবাদ কবিতায় সুজিত মান্না। এছাড়া অসংখ্য কবিতা এই সংখ্যায় আছে। এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবিরাই  লিখেছেন।

 যোগাযোগ: সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ, মালঞ্চ, ডিভিসি মোড়, নর্থ শ্রীপল্লি, পূর্ব বর্ধমান-৭১৩১০৩, চলভাষ :৯৮৩২৭৯৭১৬৭,মূল্য-১২৫ টাকা।

 🌿

লিটল ম্যাগাজিনের জগতে চমকে দেবার মতোই একটি পত্রিকা 'সকলের কথা'(উৎসব ২০২১)সংখ্যা।এটিকে একটি পত্রিকা নয়, এই সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য সংকলন বললে অত্যুক্তি হবে না।বৃহৎ কলেবরের সংখ্যাটিতে বহু রচনাই মনে দাগ কাটে। প্রথমেই রাজা তেজচাঁদের প্রবর্তিত পটেশ্বরী দুর্গাপূজার ঐতিহাসিক অনুসন্ধান করে প্রবন্ধ লিখেছেন পল্লব মুখোপাধ্যায়। প্রবালকান্তি হাজরা সার্ধশতবর্ষের সরলা দেবী রবীন্দ্রনাথের তেজস্বিনী ভাগ্নিকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। এত বিস্তারিত তথ্য আমাদের অবাক করে। বিদ্যাসাগর-রবীন্দ্রনাথকে ছোটবেলার শাসনে ও সোহাগে খুঁজেছেন শিশিরকুমার বাগ। শ্রমসাধ্য এটিও একটি রচনা। বিপ্লবভূমি মেদিনীপুরের গৌরবগাথা অনুসন্ধান করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। লেখক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী মনীষী এম আব্দুর রহমানের  জীবনদর্শন ও ভাবনাকে ইতিহাসের আলোকে তুলে এনেছেন আবু রাইহান। এছাড়া আরও আরও প্রবন্ধ-নিবন্ধে আছেন সুমন চট্টোপাধ্যায়, মৌসম মজুমদার, ভাস্করব্রত পতি। 'চক্রব্যূহ' নামে উপন্যাস লিখেছেন সায়ন্তনী বসুচৌধুরী। প্রেমের জটিল আবর্তের সঙ্গে বাস্তব জীবনের সংঘাত ও সহমর্মিতা তাঁর উপন্যাসটিতে জেগে উঠেছে। অজস্র ছোটগল্পের ডালি নিয়ে সংখ্যাটি বৈচিত্রে ভরা। গল্পকাররা হলেন ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়, রূপক সাহা, জয়দীপ চক্রবর্তী, প্রদীপ দে সরকার, সাগরিকা রায়, চুমকি চট্টোপাধ্যায়, সুকুমার রুজ, কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপুল মজুমদার, অনন্যা দাশ দেবব্রত দাশ, কমলেশ কুমার, মৃত্যুঞ্জয় দেবনাথ, সংযুক্তা সেনগুপ্ত, দেবদুলাল কুণ্ডু, অসীম কুণ্ডু, বিতস্তা ঘোষাল, সন্ধ্যা বিশ্বাস প্রমুখ আরও বহু গল্পকার। একগুচ্ছ অণুগল্প লিখেছেন এই সময়ের বহু কবি সাহিত্যিকও। ইসমত চুগতাই এর গল্পের অনুবাদ করেছেন বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়। খুব স্বাদু অনুবাদ। প্যারিসসহ অন্যান্য ভ্রমণ নিয়ে লিখেছেন সুদর্শন নন্দী, অপূর্বকুমার জানা, মণিমেখলা মাইতি। বুদ্ধদেব গুহের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার ও স্মরণে লিখেছেন অনুপম ভৌমিক। এছাড়া সংখ্যাটিতে আছে অজস্র কবিতা। সম্পাদকীয়তে উল্লিখিত হয়েছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করেও পত্রিকার কুশীলবদের উত্তরণের কাহিনি। খুব বলিষ্ঠ কথন। সব রকম যোগাযোগ সম্পাদক: সৌরভকুমার ভূঞ্যা, তেরপেখ্যা, মহিষাদল, পূর্ব মেদিনীপুর-৭২১৬২৮, চলভাষ:৭৪৩১৯৮৫৪৮৫, মূল্য-১০০ টাকা।

🌿

শারদীয়া সংখ্যা 'প্রগতি'(১৪২৮) বছরে একটি সংখ্যা প্রকাশিত হলেও সারা বছর ধরেই এই পত্রিকাটির জন্য পথ চেয়ে থাকতে হয়। চতুর্বিংশ বর্ষ পেরিয়ে আসা পত্রিকাটির ঐতিহ্য আজও বজায় আছে। বাংলা ভাষার বিশিষ্ট লেখকদের কাছ থেকেই এই সংখ্যার জন্য লেখা সংগ্রহ করা হয়। পুরাণপ্রসঙ্গে শ্রী রামচন্দ্রকে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা মূলক প্রবন্ধ লিখেছেন সাহিত্যিক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী।চুয়াত্তর বছরের স্বাধীনতা দিবস নিয়ে মূল্যায়ন করেছেন পবিত্র সরকার। জাতিভেদ আর বর্ণবিদ্বেষ প্রথার ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন পল্লব সেনগুপ্ত। সুকুমার রায়ের গল্পও নাটক নিয়ে লিখেছেন পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মহামানবদের দুর্গাপূজা নিয়ে ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন স্বামী বেদানন্দ। এছাড়া সাম্প্রতিককালের রাজনীতি, প্রশাসন বিভাগ, নির্বাচন নিয়েও কিছু প্রবন্ধ আছে। অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল্যায়ন করেছেন মানবেন্দ্রনাথ সাহা। রাঢ় বাংলার লোকসংস্কৃতির একাল সেকাল নিয়ে লিখেছেন সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়। বাংলার তাঁত শিল্পের ইতিহাস ও অবস্থান নিয়ে আলোকপাত করেছেন আদিত্য মুখোপাধ্যায়। সাহিত্যিক স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর এবং বিনোদ ঘোষাল এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুরঞ্জন রায়। তাঁদের নিজেদের কথাসাহিত্য এবং সাম্প্রতিককালের কথাসাহিত্য নিয়ে বহু দিক আলোচিত হয়েছে। উপন্যাসিকা লিখেছেন দীপারুণ ভট্টাচার্য। অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণের কাহিনি শুনিয়েছেন অরুণাভ দাস। এছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং শতাধিক কবিতা নিয়ে সংখ্যাটি পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়েছে। যোগাযোগের ঠিকানা: সম্পাদক দেবাশিস সাহা, 'সাহাভিলা', নেতাজিপল্লি, সাঁইথিয়া, বীরভূম-৭৩১২৩৪, চলভাষ:৯৪৩৪২৪৯৯৭৪, মূল্য-১০০ টাকা।


🌳