আমরা একে অপরের জন্য বেঁচে থেকে; এই পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলি।

Story and Article


 আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেকের জন্য বাঁচি।

রতন বসাক

এই পৃথিবীতে আমরা অর্থাৎ মানুষ; সমস্ত জীবেদের মধ্যে বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞানে, গুণে ও কর্মশক্তিতে সবার থেকেই সেরা। এর কারণেই মানুষ একমাত্র, এই পৃথিবীর প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজের অনুকূলে করে নিতে পেরেছে। আর অসম্ভবকে বাস্তবে সম্ভব করে, সেটা দেখিয়ে দিয়েছে। তাই শুধুমাত্র মানুষ'ই অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ ও আরামে জীবন যাপন করতে পারছে।

মানুষ'ই একমাত্র এই পৃথিবীতে নিজের মনের ভাব অপরকে, বুঝিয়ে বলার জন্য কথা বলতে পারে নিজের ভাষাতে। তাই খুব সহজেই মানুষ একে অপরকে বুঝতে পারে। যদিও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকমের ভাষার প্রচলন আছে। তথাপি এই ভাষার মাধ্যমেই, সমস্ত রকম আদান প্রদান একে অপরের মধ্যে চলতে থাকে।

আমরা এটা জানি যে কেউ'ই, স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, এই সুদীর্ঘ পথটা চলতে গিয়ে; আমাদের বাঁচতে হয় একে অন্যের সাহায্যের মাধ্যমে। কেউ যদি ভাবে যে, আমি এই পৃথিবীতে একা বেঁচে থাকতে পারবো; তাহলে সেটা তার মুর্খতার পরিচয় দেয় মাত্র! কোনোমতেই কারও এই পৃথিবীতে একা বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাঁর কারণেই মানুষ একেকজন, একেক গুণের অধিকারী হয়। সৃষ্টির নিয়ম অনুসারেই, একজন মানুষ সর্বগুণ সম্পন্ন হতে পারে না। হয়তো কারও গুণ অন্যের গুণের থেকে একটু বেশি থাকতে পারে। হাতের পাঁচটা আঙুল যেমন সমান হয় না। ঠিক প্রত্যেকটি মানুষও সমান হয় না এই জগতে। আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্যই, পরম করুণাময় ঈশ্বরের সৃষ্টি হয়ে এই পৃথিবীতে এসেছি। তাঁর ইচ্ছাতেই আমরা আসি, আবার নিজের কর্ম শেষ করার পরে, ফিরে যাই, তাঁরই ইচ্ছাতে। কর্ম অনুযায়ী একেকজন মানুষ একেক নামে পরিচিত হয়। যেমন কৃষক, নাপিত, জেলে, ডাক্তার, শ্রমিক, সেনা ইত্যাদি। সবাই সবার নিজের কাজ করছে বলেই, পৃথিবীতে মানুষ আজও সঠিকভাবে জীবন যাপন করতে পারছে। একে অপরের পরিপূরক আর আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের জন্য বাঁচি এই পৃথিবীতে। সবার'ই বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তবু কিছু অল্পসংখ্যক মানুষ নিজের সুখ, সুবিধা ও ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্যই; অন্যের ক্ষতি করে থাকে। তাঁরা একবারও ভাবে না যে, অন্যের ক্ষতি করলে সেটা নিজেরই ক্ষতি হয়। যেমন ধরুন একজন কৃষককে আমি যদি মেরে কিংবা তাকে বাঁচার অধিকার না দিই। তা হলে আমি বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য কোথায় পাবো? আমি কি সেই কৃষকের মতো, কষ্ট করে ফসল ফলাতে পারবো? এমন নীতি প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রত্যক্ষ ভাবে অন্যের ক্ষতি করে আমরা হয়তো নিজের ভালো করার চেষ্টা করি। কিন্তু পরোক্ষভাবে যে সেটা আমারই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে ভবিষ্যতে। এই পৃথিবীতে সবাই ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকবো। এটা একটু ভেবে দেখা উচিত প্রত্যেকের। নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য, কখনোই অন্যের ক্ষতি করা উচিত নয়। প্রত্যেকেই যাতে ভালো থাকে,ও তাঁর কর্ম গুণের সবটাই দিতে পারে, সেটা আমাদের সবার দেখা উচিত।
রাজনীতি কিংবা অন্য কোনো আক্রোশের কারণে, আমরা কখনই কারও ক্ষতি করবো না; এটা আমাদের পণ করে নেওয়া উচিত। প্রত্যেককে প্রত্যেকের ন্যায্য পাওনা আমরা যদি সঠিকভাবে দিতে পারি। তাহলে সে ভালো থাকবে ও পরোক্ষভাবে আমিও ভালো থাকবো। একটা কথা মনে রাখতে হবে, কোনো কিছু ধ্বংস বা নষ্ট করা যতো সহজ। সেটা গড়ে তোলা ততো সহজ নয়। তাই আসুন আমরা একে অপরের জন্য বেঁচে থেকে; এই পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলি।