এখন কোনো অবলম্বন নেই। শপথ নেই। বিরহ আগুন নেই।

 

সুকুমার হালদার

সানগ্লাস নকশিকাঁথা ও সাউন্ড স্লিপ 

সুকুমার হালদার 


নিঃশব্দে একে একে  ভেঙে পড়ছে সব অবলম্বনগুলো

পাখিদেরও ডানা ভাঙছে অজানা কোন পরাক্রমী হাওয়ায়। একদিন গাছই সবার অবলম্বন ছিল। বন-জঙ্গল নদী-মাঠের মায়ার মোহনজালে আমাদের যাপিত স্বপ্ন ছিল। এখন সময় বোধহয় দৈব অভিশাপেই শাপগ্রস্ত!

অহর্নীশ মানুষ ঘুরছে পাপগ্রহের চারদিকে চকচকে জিভ নিয়ে। পৃথিবী জুড়ে কথার বাজারী মরশুম চলছে।

এখন কোনো অবলম্বন নেই। শপথ নেই। বিরহ আগুন নেই। ভ্রমে বেঁচে আছে সময় চিকচিক বালুকাময়। অথচ শপথের পথে অবলম্বন ছিল। শপথ নিজেই মুখোশ হয়ে কবে লেপ্টে গেছে পৃথিবীর মানচিত্রে!আমরা বুঝতে পারিনি বা হয়তো বেশি করে বুঝতে পেরেছি। শুধু ভান করছি না বোঝার।আমি এখন ছোটোবেলায় বাবার দেওয়া সানগ্লাস পরে আর মায়ের নকসি কাঁথা জড়িয়ে ঘুমাই।সাপ-লুডো খেলার কথা মনে পড়ে। বৃদ্ধকালের ক্যাটার‍্যাক্টে যেমন ধরা দেয় অস্পষ্ট শৈশব। সাপের মুখে পড়লে কেমন ভয় পেত অবন্তীকা ইন্দুমতীরা।আমি সানগ্লাস পরে অভয় দিতাম নায়কের মতো। ওরা ভয়মুক্ত অবলম্বন ভাবত আমাকে। সেই তাদের এখন অবলম্বন আছে! শুধু আরোহন। অবরোহন কথা ভাবে না কেউ। নামতে হবে। প্রয়োজনে নামাতে হয়। সেটা খাদে নয় বিনয়ে। তবেই না উঠতে শেখা। ছোটো বেলার সানগ্লাস পরি কাঁথা জড়াই অবলম্বন ভেবে। স্বপ্নের প্রবল স্রোতে আস্থাশীল। সমস্ত দুঃখের অন্তিম নীরবতা সানগ্লাসে আর নকসি কাঁথায়।পথ ঘাট বাজার সর্বত্র ফ্লুরোসেন্ট রঙীন। তবুও আমি সানগ্লাস পরে ঘুমাই। সানগ্লাসের ঘুমে বনলতা নীরা বিজয়ারা স্বপ্নে আসে রোজ। সানগ্লাস অবলম্বন হয়, প্রেম দেখি, সাউন্ড স্লিপ হয়।পাখিদের সানগ্লাস দেওয়া হোক। ব্লাইন্ড স্টিকের মতো সানগ্লাস আমার অবলম্বন। বিশেষ করে রাতের ঘুমে সানগ্লাস জুড়ে স্বপ্ন নামে এলোমেলো রোজ। লোকসভা রাজ্যসভা বিধানসভাতে কেবল নয়। সরকারীভাবে সবাইকে সানগ্লাস দেওয়া হোক। সানগ্লাস প্রগতির বন্ধু প্রগতির অবলম্বন। আবাল বৃদ্ধ বনিতা, সানগ্লাস সবার ভরসা।

সানগ্লাস আমার অবলম্বন।