পাখার পরে লেখা থাকতো কত ছন্দ গাঁথা, মহাকাব্য হয়ে উঠতো শুকনো তালের পাতা।

সৌরভ দুর্জয়



তালেরপাখা

-সৌরভ দুর্জয় 


গরমকালে বাতাস দিতো আগে তালেরপাখা,

পাখার গায়ে লেগে থাকতো মধুর ছোঁয়া মাখা।

কাজের থেকে ফিরে এসে বসতো কৃষক ঘরে,

বিবি তাকে ঠান্ডা রাখতো পাখার বাতাস করে।

আসলে বাড়ি স্বজন কুটুম গরমকালে কারো,

বাবা মায়ে আদেশ দিতো-তালেরপাখা ধরো।

বাতাস করো খোকা-খুকু যতো সময় পারো,

ঠান্ডা বাতাস ঢেলে দিয়ে তবে যেন সরো।

পাখার পরে লেখা থাকতো কত ছন্দ গাঁথা,

মহাকাব্য হয়ে উঠতো শুকনো তালের পাতা।

পাখারডাটা কাজে লাগতো গুরুর আদালতে, 

দন্ড-সাজার ডিক্রি আসতো তালের পাখা হতে।

কর্তা বাবু খেতো বাতাস বসে কেদারায়,

গরমকালে নদীর তুফান বইতো চেহারায়।

পালকির মধ্যে বাতাস নিতো বর এবং কনে,

লাজুক মুখে কথা বলতো হেসে দুইজনে।

দেখা যায় না কারো হাতে এখন তালেরপাখা,

পাওয়া যায় না ঠান্ডা বাতাস; মধুর ছোঁয়া মাখা।


০২/০২/২০২২

ফরিদপুর।