ছোট পত্রিকা আলোচনা


ছোট পত্রিকা আলোচনা


তিনটি পত্রিকা 


লিটল ম্যাগাজিনের প্রকাশ এবং ব্যাপ্তি আঞ্চলিক থেকে বড় শহর পর্যন্তই ছড়িয়ে আছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এমনই তিনটি লিটল ম্যাগাজিন আমাদের দপ্তরে এসে পৌঁছেছে।



Du~কলম


'Du~কলম' ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে এমনই অদ্ভুত নামকরণ ম্যাগাজিনটির। সম্প্রতি শীতকালীন সংখ্যা(১৪২৮)  প্রকাশ করে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করেছেন, প্রথম নববর্ষ সংখ্যার সাফল্যের পর এটি দ্বিতীয় সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হলো করোনার ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই। দিল্লি থেকে এরকম একটি নধর কলেবরের ম্যাগাজিন বের করা যে কত কঠিন আমরাও তা উপলব্ধি করতে পারছি। তবু পত্রিকাটির ব্যতিক্রমী প্রচ্ছদ এবং বিচিত্র ধরনের লেখার পরিবেশনা যারপরনাই মুগ্ধ না হয়ে পারিনি। আশ্চর্য হয়েছি কীভাবে এত লেখা সংগ্রহ হলো! 'শূন্যে'র সম্পাদক, চিত্রনাট্যকার, কাহিনিকার এবং পরিচালক শ্রীদেবালয় ভট্টাচার্যের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার এই সংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। এছাড়া অভিনেতা-নির্দেশক-নাট্যকার ঋতব্রত মুখার্জিরও সাক্ষাৎকার আছে। এই সময়ের দুই উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব যাঁরা জনমানসে অনেকটাই প্রভাব ফেলতে পেরেছেন। সাম্প্রতিককালের পত্রিকায় নাটকের দেখা না পাওয়া গেলেও এই পত্রিকায় 'উদাসীনতা' নামে একটি বেশ বুদ্ধিদীপ্ত একাঙ্ক নাটক লিখেছেন জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়। বাংলাদেশ ভ্রমণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন স্বপ্না গুহ ঠাকুরতা। এছাড়া কেদারনাথে ভ্রমণ, সমুদ্র ভ্রমণ এবং প্যারিস ভ্রমণের কথাও লিখেছেন যথাক্রমে গোপা মিত্র, শংকর ব্রহ্ম ও ঈপ্সিতা সেন। উপন্যাস লিখেছেন কৃষ্ণা সাহা। অলৌকিক ঘটনার সন্নিবেশে আরেকটি উপন্যাস লিখেছেন সৃজিত মিত্র। রম্যরচনায় যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন জয়তী ধর পাল। বড় গল্প লিখেছেন মুসা আলি। এছাড়া অন্যান্য গল্পকাররা হলেন: কল্যাণী মিত্র ঘোষ,ড.ময়ূরী  মিত্র, সুনীল কুমার রায়,রঞ্জনা বসু, অলোক মুখোপাধ্যায়, সুরজিৎ দেব রায়, সুদেষ্ণা চক্রবর্তী, মৌসুমী চৌধুরী, বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত, সৌমিক ঘোষ, স্বাতী ব্যানার্জি, দেবারতি আচার্য, পিন্টু ভট্টাচার্য, সোনালী শর্মা, পাপড়ি দত্ত, তিমিরবরণ দাস প্রমুখ। ইংরেজি ভাষাতেও বেশ কয়েকটি গল্প আছে। এছাড়া অসংখ্য কবিতা, ছোটদের বিভাগ এবং রান্নাবান্না নিয়েও কলম ধরেছেন সুমনা চৌধুরি, মনীষা বসু ওর শ্রেয়সী মিত্র। বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ লিখেছেন: রণজিৎ গুহ,  শৈবালকুমার বোস, ঋদ্ধিরাজ রায় ও সুমিত তালুকদার। যোগাযোগ: সম্পাদক সুদেষ্ণা মিত্র, এস-২৪৫, গ্রেটার কৈলাশ পার্ট ওয়ান, নিউ দিল্লি-১১০০৪৮,মূল্য-১০০ টাকা।


আলোর পাখি


'আলোর পাখি'(কার্তিক-পৌষ ১৪২৮)  চব্বিশ বর্ষের এই চতুর্থ সংখ্যাটি যথেষ্ট আকর্ষণীয়। সম্পাদকীয়'র শিরোনাম 'দহন বেলা'য় উল্লেখ করেছেন ঋতু শীত হলেও জীবনধারণ অগ্নি মূল্যে দহিত হচ্ছে। পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, গ্যাসের ক্রমশ মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা। এই মুহূর্তে এটাই  সারাদেশের সমস্যা। এই সংখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু প্রবন্ধ মনে রাখার মতো। উত্তর বাংলার লোকসাহিত্য ও লোকসঙ্গীতের প্রবাদপ্রতিম গবেষক হরিশচন্দ্র পালের শতবর্ষ উপলক্ষে আলোকপাত করেছেন ঋষিকল্প পাল। অনালোচিত কবি সুফিয়া কামালকে নিয়ে একটি দীর্ঘ মূল্যায়ন করেছেন আশরাফুল মণ্ডল। রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়ে আলোচনা করেছেন সুকুমার বর্ধন। 'জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু ও মিসিসিপি নদীর কান্না' লিখেছেন রমাপ্রসাদ নাগ। এছাড়া বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন এবং ধারাবাহিক রচনা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে চলেছে। অণুগল্প লিখেছেন চন্দনকুমার ভট্টাচার্য। বড় গল্প লিখেছেন দেবাশিস সরকার। খুব বাস্তব অভিজ্ঞতায় একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের রোগভোগ চিকিৎসা এবং জীবনধারণ কত কঠিন তাই গল্পের মধ্যে পাওয়া যায়। এই সংখ্যার কবিতাগুলিও খুব ভালো লাগল। যোগাযোগ: সম্পাদক তপনকুমার রায়,বি-১৫,সুকান্ত পল্লি, দুর্গাপুর-৭১৩২০১,পশ্চিম বর্ধমান, চলভাষ:৯৮৩২১১১১৫৮, মূল্য-৩০ টাকা।

প্রতিদ্বন্দ্বী


'প্রতিদ্বন্দ্বী' (জয়দেব মেলা সংখ্যা ১৪২৮)  আকর্ষণীয় প্রচ্ছদে জয়দেব কেন্দুলির বাউল মেলা উপলক্ষে নজরুল সাহিত্য সংসদের মুখপত্র হিসেবে এটি প্রকাশিত হয়েছে। সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে হতাশাগ্রস্ত মনের মধ্যে এক ঝলক বাউল বাতাস এনে দিতে পারে এই পত্রিকা। সম্পাদকীয় বিভাগে তা উল্লেখ করেছেন পত্রিকার সম্পাদক। দেশভাবনার স্বরূপ সন্ধানে একটি ছোট পত্রিকার ভূমিকা কী হতে পারে তা নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্য সন্ধান এর ভেতর দিয়ে নাসিম এ আলম একটি প্রতিবেদন লিখেছেন।  সাহিত্যিক সম্রাট সেনকে অনুসন্ধান প্রসঙ্গে শচীন্দ্রনাথ অধিকারী ও তাঁর পুত্র সৌমেন অধিকারীর তথ্য সন্ধান করেছেন মনিরুল হক বুলবুল। ভারতের প্রথম নিরক্ষর প্রতিবাদী নারী ভাঁওরি দেবী সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন রীনা কবিরাজ। কবি জয়দেবের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেছেন মলয় দত্ত। বাংলা লোকছড়ায় ঐতিহাসিক উপাদানের গুরুত্ব ও প্রয়োগ সম্পর্কে লিখেছেন সামশুন নেহার। মননশীল ছোটগল্প লিখেছেন ফজলুল হক, দেবনাথ সুকান্ত, মুসা আলি এবং অণুগল্প লিখেছেন শিবপ্রসাদ খাঁ। প্রতিটি গল্পই মনকে স্পর্শ করে। ভালোলাগা কবিরা হলেন তপন গোস্বামী, চারুচন্দ্র রায়, ফাল্গুনী দে, সৈয়দ সাইফুদ্দিন, অসীম শীল, মানস ভাণ্ডারী, নিজামুদ্দিন মণ্ডল, অসিকার রহমান, প্রভাত সাহা, আবদুস সালাম, আনারুল হক, শুভ্রা পাণ্ডে, রাজবিহারী শীল, মধুমিতা সরকার, জ্যোতি সেন, লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল, জ্ঞানব্রত চট্টোপাধ্যায়, অজিত চৌধুরী, শীলা চক্রবর্তী প্রমুখ। যোগাযোগ: সম্পাদক সৈয়দ সাইফুদ্দিন, দুবরাজপুর, বীরভূম-৭৩১১২৩, চলভাষ:৯৭৪৯৯৩৭৫৭৫,মূল্য-৩০ টাকা।


☘️

তৈমুর খান