তবুও মানুষ জাতি নির্বিকার ভঙ্গিতে নিস্পেষিত করেছে তোমাকে বারংবার।

 

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়

নারী

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়

রয়েছো তীব্র বাসনায় পুরুষের।

রয়েছো অনাদি অতীত সৃষ্টির সম্ভার নিয়ে। 

প্রকৃতির এই ভার বহন করে শূন্য তুমি।

তবুও শূন্য এই বসুন্ধরা। 


তবুও মানুষ জাতি নির্বিকার ভঙ্গিতে 

নিস্পেষিত করেছে তোমাকে বারংবার।

অবশেষে পড়ে থাকো নিভন্ত চুল্লি।

যেখানে নিরীহ মানুষের কষ্ট ক্লিষ্ট দিনযাপন,

যেখানে প্রত্যাখ্যাত আত্মবিসর্জন।


একদিন শেষ হলে এই জীবন যন্ত্রণা,

কেবা মনে রাখে প্রসবের যন্ত্রণার কথা!

শুধু জানে প্রত্যহ নিয়মে এই পরিণতি। 

অনাবৃত শ্রোণি তে কখন কিভাবে এলাম, 

আবার যখন যাবো সেই রূপে,

কখনো ভেবেছি কি তুমি আমি!


আজ আকাশে রাস পূর্ণিমা রাতে 

তোমাকে ছুঁয়ে সেই নরম মাটি আঁকড়ে থাকি।

জড়বৎ শত শত সন্তানের জন্ম দিতেছো, 

শুধুমাত্র জন্ম দিতে হবে বলে।


সুতীব্র চিৎকারে বিদীর্ণ কালের নৈশব্দ্য।

মানুষেরা আসে পিপীলিকা সম, 

এই ইহ সংসারে,এক অনন্ত নির্দেশ দৈব্য।

আসে আর যায়, কে রাখে হিসাব তার!


তুমি জানো কেন অসার সংসার, 

কেন মাতৃরূপে সর্বংসহা দেবী,

রয়েছো অনাদি অতীত নিভৃতে আনন্দগহ্বরে!

আমার প্রণতি রইলো হে দেবী তোমার প্রতি,

আমার চরণগীতি। 


-গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। ০৭,০৩,২০২২।