অন্তরালেই রয়ে গেলো এই দুই প্রেমিক যুগলের অসমাপ্ত প্রেম কাহিনী l

 

সোমা দাস

প্রেমের সমাধি 

সোমা দাস 


সাঁতপাকে বাঁধা পড়লো সুনিমেশ l সন্ধ্যা রাতেই বিয়ের লগ্ন থাকায় বর কনেকে আশীর্বাদ করতে এবং আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি  লোকে লোকারন্য l কে কাকে বসতে বলবে, যে যেমন করে পারে বিয়ের মণ্ডপ ঘিরে রেখেছে l কনকলতার হাতে হাত রেখে বন্ধনে আবদ্ধ হলো সুনিমেশ l নব বধূর মুখে আনন্দের ছাপ পরিলক্ষিত হলেও বরবেশী সুনিমেশ এর মুখে বিরহের ছাপ লেপ্টে আছে l কেউ কিছু আচ করতে না পারলেও সুনিমেশ ভালো করেই জানতো কি চলছে তাঁর মনের ভেতর l জোর করে হাসা যায় কিন্তু নেপথ্যে যে চিত্র লুক্কায়িত থাকে তা ভুক্ত ভোগী ছাড়া আর কেউ জানে না l


 বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে ঠিক কিন্তু ভুলতে পারছে না হেমলতা কে l কখনো কনক লতার মুখাভীরণে প্রাণের প্রিয়তমার মুখটা ভেসে উঠছে l দীর্ঘ আট বছর যে ছিলো মনের মনিকোঠার একমাত্র আরাধ্যা দেবী l যাকে ঘিরে হাজারো স্বপ্ন, মান অভিমান, প্রেম, ভালোবাসা l যাকে ছাড়া পলক পড়েনি সুনিমেশ এর --সে আজ কোথায়!কেমন আছে কিছুই জানে না l অনেক খোঁজেছে তাকে, লোক লজ্জার ভয়ে মুখ ফুটে কাউকে কোনোদিন বলার সাহস করেনি সুনিমেশ l ফেলে আসা স্মৃতি গুলো বড্ড জ্বালাতন করছে, রাতের ঘুম উবে গেছে, কিন্তু কোথায় তাঁর মনের মানুষ হেমলতা l ২০১৮ সালে কোনো এক সাহিত্য সম্মেলনে হেমলতার সাথে প্রথম আলাপ সুনিমেশ এর l অত্যন্ত রুচিশীল, নম্র ভদ্র শিক্ষিতা রমণীর সাথে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যায় সুনিমেশ l দুধর্ষ এই রমণীর জ্বালাময়ী বক্তব্য, মন কাড়ে তাঁর l হেমলতার গুনে মুগ্ধ হয়ে কাছে পাওয়ার বাসনা জন্মালেও ব্যক্ত করার সাহস পাচ্ছিলো না l 


এতটাই ব্যক্তিত্ত্ব পূর্ণা ছিলো হেমলতা l অবশেষে সরাসরি না বললেও হাব ভাব আকার ভঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলো সে হেমলতা কে ভালোবাসে l ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক গভীর হতে লাগলো l কিন্তু সাম্প্রতিক কালের প্রেমিক প্রেমিকাদের থেকে এই দুই প্রেমিক যুগল ছিল একটু আলাদা l দুজন দুজনকে কাছে পেতে কখনোই আলাদা ভাবে দেখা করে নি কোনো পার্ক বা রেস্তোরাঁ য় l এভাবেই বেশ কিছুদিন কাটার পর সুনিমেশ পাকাপাকি ভাবে পেতে চেয়েছিল হেমলতা কে l অপরদিকে হেমলতা চাইছিলো না তাঁর এই ভাঙাচুরা শরীর টার জন্যে সুনিমেশের জীবনটা বিপন্ন হোক l হেমলতার একটা কিডনি অকেজো ছিল দীর্ঘ দিন যাবৎ, আরেকটা র অবস্থা ও সংকটজনক l তাই যেকোনোদিন জীবনদীপ নিভে যেতে পারে l পুরো বিষয় জেনেও হেমলতা কে পাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠে সুনিমেশ l 


সুনিমেশ কে কোনো ভাবেই শান্ত করা যাচ্ছিলো না l হেমলতার সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো l অবশেষে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মোবাইল ফোন পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হলো হেমলতা l এই যন্ত্রনা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো হেমলতা কে l নিস্তব্ধ রাতে খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করতো ভালোবাসার মানুষটিকে l যন্ত্রণায় ছট ফট করতো বিছানায় l একটিবার যদি দেখতে পাওয়া যেত l কিন্তু তা আর সম্ভব নয় l নিজ হাতে প্রেমকে মেরে ফেলেছে, এটাই বিড় বিড় করতো l অবশেষে চৌঠা ফাল্গুন সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলো হেমলতা l ঐ তারিখেই সুনিমেশ বর সেজে বিয়ের মণ্ডপে l অলক্ষ্যে থেকে গেলো পাহাড়সম যন্ত্রনা র ছটফটানি l অন্তরালেই রয়ে গেলো এই দুই প্রেমিক যুগলের অসমাপ্ত প্রেম কাহিনী l