লিটিল ম্যাগাজিন আলোচনা

 webtostory



এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকা

  🐧

তৈমুর খান 

🐢



ঈদ সংখ্যা, বসন্ত সংখ্যা, নববর্ষ সংখ্যা ইত্যাদি বেশকিছু সংখ্যা পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এত ভঙ্গ বঙ্গদেশ তবু রঙ্গে ভরা এইসব পত্রপত্রিকা দেখলেই বোঝা যায়। বাঙালি তার সংস্কৃতিকে পত্র-পত্রিকার মাধ্যমেই জানান দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মসমর্পণ করলেও পত্র-পত্রিকার যে একটা আলাদা মূল্য আছে এবং তার সারস্বত আবেদন অস্বীকার করা যায় না একথা তারাও জানেন। এই মুহূর্তের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পত্রপত্রিকা আলোচিত হলো।


১, 

সুফি


 'সুফি' প্রকাশিত হয় ৫৭ নং আলিমুদ্দিন স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০১৬, পশ্চিমবঙ্গ ভারত থেকে। বর্তমান সংখ্যাটি ঈদ সংখ্যা(১৪২৯)। ভারত ও বাংলাদেশের বহু স্বনামধন্য লেখক-লেখিকা কলম ধরেছেন। কুরআন-সুন্নাহ থেকে পয়গম্বরদের জীবন কাহিনি ধর্মাচরণ, বিবাহ ও সামাজিকতা এবং বিশ্বভ্রাতৃত্ব ইত্যাদি বহু বিষয় নিয়ে সংখ্যাটি মূল্যবান হয়ে উঠেছে।


ঈদের তাৎপর্য এবং মানব জীবনে ঈদের প্রভাব কতখানি তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লেখক তালিকায় আছেন: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন, আমিনুল ইসলাম, সালমন সালমা, ড.সেক আবুল, মুহাম্মদ রিদওয়ান আশরাফী, মুহাম্মদ আব্দুল আলিম, মোসাম্মৎ রোজিনা খাতুন, আবু মুহাম্মদ মুশফিক ইলাহি, মাসুক আহমেদ, মেহরাজ উদ্দিন চৌধুরী, ইয়াছিন রাসেল, মুহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত, ইসরাত জাহান নীলা, সুফি রফিক উল ইসলাম, ওয়াহেদ মির্জা, মহম্মদ মফিজুল ইসলাম, ইমরান হুসাইন তুষার প্রমুখ।


দুজন সম্পাদক পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। আশফাক আহমেদ আসবি (ভারত): কথা:৯১৬৩৩৮৭৬৬৭

 ইমরান হুসাইন তুষার(বাংলাদেশ): কথা:০১৯১৪১২০৬৬ 

 মূল্য:   বাংলাদেশ:৪০ টাকা। 

           ভারত :৩০ টাকা।


'চণ্ডীদাস' 


'চণ্ডীদাস'(২০২২)  জয়দেব মেলা সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকাটি জয়দেব-কেন্দুলির ঠাকুর হরিদাস আশ্রম থেকে প্রকাশিত হয়। বীরভূমের একটি ঐতিহ্যপূর্ণ স্থান হলো জয়দেব-কেন্দুলি। অজয় নদের তীরে কবি জয়দেবের সাধন তীর্থ অবস্থিত। আবার এই বীরভূমেই কবি চণ্ডীদাসেরও লীলাভূমি অবস্থিত।দুই সাধকের স্মরণেই পত্রিকাটি মানুষের কাছে সমাদৃত।


এই সংখ্যায় রাঢ় ভূখণ্ডের মাটি-মানুষের  ইতিহাস নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ লিখেছেন প্রণব ভট্টাচার্য। সেন-রাজা পাল-রাজাদের আমলের ইতিহাস প্রসঙ্গক্রমে আলোচনায় উঠে এসেছে। সেই সময়ের সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন এবং সমাজ জীবনের ছবিও তুলে ধরেছেন। লোকসাহিত্যের গবেষক আয়ুব হোসেন লোকসমাজে প্রচলিত মঙ্গল কামনায় অনেক মেয়েলি ছড়ার উপস্থাপন করেছেন। গৃহকোণ থেকে বৃন্দাবন, বর-কনে থেকে শাশুড়ি-বউ ইত্যাদি নানা বিষয়ের ছড়াগুলির উৎপত্তি ও বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেছেন।


বীরভূমের হেতমপুরের জমিদার ও রাজবাড়ির কাহিনি এবং তাঁদের পুরাকীর্তির নিদর্শনগুলির পরিচয় দিয়েছেন সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়। রণজিৎ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন অজয় নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব গ্রামের বিস্তারিত পরিচয়। সেখানকার মন্দির ও স্থাপত্য নিয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছেন।


এই সংখ্যার লেখক তালিকায় আছেন আদিত্য মুখোপাধ্যায়, কথা সাহিত্যিক ফজলুল হক, গল্পকার শ্রীকান্ত অধিকারী, কবি কুমুদ কিংকর এবং এই সময়ের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কবি। সংখ্যাটি অসাধারণ সংরক্ষণযোগ্য একটি সংখ্যা। সম্পাদক: আল আফতাব, দুবরাজপুর পাওয়ার হাউস মোড়, বীরভূম থেকে প্রকাশিত। কথা বলতে পারবেন:৯৭৩২১৬৩০০৯,মূল্য ৩০ টাকা।


৩ 

অনুভূতির ডানা 


'অনুভূতির ডানা'(বৈশাখ ১৪২৯) রামপুরহাট এর কবিতা উৎসব উপলক্ষে রজত জয়ন্তী বর্ষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এই সংখ্যার সুন্দর প্রচ্ছদ খুব সহজেই আকৃষ্ট করবে। কার্যনির্বাহী সম্পাদক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়(কথা ৭৯০৮৪০৪৭৮৮) আগাগোড়া পত্রিকাটির অলংকরণ করেছেন। সময়ের নানা ভ্রুকুটি ও অন্তরায়কে উপেক্ষা করেই কবিতা উৎসব এবং পত্রিকা প্রকাশে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। তিনি নিজেই লিখেছেন 'শঙ্খ-ধ্বনি' কবি শঙ্খ ঘোষকে স্মরণ করে একটি মননশীল প্রবন্ধ। কবির মেধা-মননের সঙ্গে মানুষ শঙ্খকে সহজেই চেনা যায়। কবি প্রদীপ মিত্রকে নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন অনিমেষ মণ্ডল। বীরভূমের আরও বিখ্যাত দুজন সাংবাদিককে নিয়ে লিখেছেন আদিত্য মুখার্জি ও সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায়। এই দুজন সাংবাদিক হলেন নয়া প্রজন্মের সম্পাদক কাঞ্চন সরকার, এবং এবিপি আনন্দ এর সাংবাদিক গোপাল চট্টোপাধ্যায়। লেখক তালিকায় আছেন পাপিয়া বর্মন, অতনু বর্মন, রামানুজ মুখোপাধ্যায়, সৈয়দ মৈনুদ্দিন হোসেন, সলিল মুখোপাধ্যায়, অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ গুহ, কমলেন্দু বিকাশ রায়, সৌরভ হোসেন, অনিলকুমার সাহা, ফজলুল হক প্রমুখ আরও বহু কবি-সাহিত্যিক। বেশকিছু দীর্ঘ কবিতা এবং গুচ্ছ কবিতা মনে দাগ কাটে। পত্রিকা দপ্তর; নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রেলপাড়, রামপুরহাট, বীরভূম-৭৩১২২৪, চলভাষ:৮৯২৬৩২৩২২৫,মূল্য ১০০ টাকা।


যুবপ্রত্যাশা 


ঈদ সংখ্যা 'যুবপ্রত্যাশা'(২০২২)  খুব সুন্দর একটি সংখ্যা। ঈদকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যতগুলো পত্রিকা প্রকাশ হয় তারমধ্যে এই পত্রিকাটি অন্যতম। রুচি-মনন এবং পরিবেশনের দিক দিয়ে আগাগোড়া পত্রিকাটি পাঠকের কাছে আগ্রহের সঞ্চার করে। এই সংখ্যার উল্লেখযোগ্য লেখাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো শাহ আবদুল হালিমের 'ইসলাম ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতি'। বিশ্বের নানা ধর্মমতের সঙ্গে ইসলামের সংঘাত ও সমন্বয়, কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে মানবজীবনের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রেমের দৃষ্টান্ত গুরুত্ব পেয়েছে। ইসলামের ব্যাখ্যায় মানবজীবনের উৎকর্ষ সাধন কতখানি সম্ভব তা তিনি দেখাতে পেরেছেন। ক্লাউডিয়া আজিজা লিখেছেন 'আমার প্রথম রোজার দিনগুলি' নিজস্ব অভিজ্ঞতার বৃত্তে রমজান পালন এবং তার আত্মিক ও দৈহিক উপযোগিতার উপলব্ধিগুলির সুষ্ঠু ব্যাখ্যা করেছেন। খুব মরমী লেখা। ইতিহাস অন্বেষণে ইবনে বতুতার হজযাত্রা নিয়ে লিখেছেন তাসনিম খান। দ্য কাশ্মীর ফাইলস ছবি নিয়ে আলোচনা করেছেন সফিকুল ইসলাম মণ্ডল। অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন: ডা: সেখ নূর মহাম্মদ, সেখ সেতাবুদ্দিন, এইচ এম মুশফিকুর রহমান, মহ: রবিউল ইসলাম, শাকিব মুস্তাফি, সুহানা পারভীন, মোকতার হোসেন মণ্ডল, মোসলেমা খাতুন মাহি, আনসার উল হক, মিরাজুল ইসলাম। এই সংখ্যায় গল্প লিখেছেন: অমর মিত্র, রক্তিম ইসলাম, রোকেয়া ইসলাম, মুসা আলি, সামসুল হুদা আনার, সৌরভ হোসেন, হালিমা খাতুন, আজমীর রহমান, ফারুক আহমেদ, ইমাম হোসেন, বিনতে ইসমাঈল, মুহাম্মদ জিকরাউল হক। সুবোধ সরকারসহ একগুচ্ছ কবি কবিতা লিখেছেন। ফিলিস্তিনের কবিতা অনুবাদ করেছেন সাঈফ ইবনে রফিক। সম্পাদক গোলাম রাশিদ,১৪ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট(দ্বিতল), কলকাতা-৭০০০১৬,ফোন: (০৩৩)২২৬৪৫৯৫২, মূল্য-৩৫ টাকা। 


ট্রাপিজ 


'ট্রাপিজ'(২০২২)  বইমেলা সংখ্যাটি বিশেষ গদ্য সংখ্যা। এই সংখ্যায় মোট ৩০টি গদ্য লিখেছেন ৩০ জন কবি-সাহিত্যিক। কোনো গদ্যই অধ্যাপকীয় এ্যাকাডেমিক ধারার লেখা নয়। লেখকজীবনের অভিজ্ঞতাজাত অনুভবের কথা অথবা আত্মজগৎ নির্মাণের কথা গদ্যগুলিকে  ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। বেশিরভাগ গদ্যেই লেখকের লিরিক্যাল অনুভূতি যেমন আছে, তেমনি বিষয়ের মধ্যে কেন্দ্রীভূত না থেকে বহুমুখী ব্যঞ্জনাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।


একটা লিটল ম্যাগাজিনের তিরিশটি বাছাই করা ভিন্নধারার গদ্য পরিবেশন করা কম কথা নয়। লেখকদের ভিন্ন জীবনযাত্রা, ভিন্ন পরিবেশ, এবং ভিন্ন অভিজ্ঞতার নিরিখে স্বাভাবিকভাবেই গদ্যগুলিও বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং কাব্যিক সুষমামণ্ডিত। উল্লেখযোগ্য লেখকরা হলেন: বিপুল দাস, পারমিতা ভৌমিক, সপ্তর্ষি বিশ্বাস, সরসিজ সেনগুপ্ত, শ্যামল জানা, বিষাণ বসু, প্রবুদ্ধ বাগচী, ভিক্টর ভৌমিক, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত শ্যামরায়, অরুণাংশু ভট্টাচার্য, প্রবুদ্ধসুন্দর কর, রাণা রায়চৌধুরী, সুদীপ বসু, পার্থজিৎ চন্দ, শবরী রায়, সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়, অদীপ ঘোষ, বুবুন চট্টোপাধ্যায়, অমিত সরকার, শ্রীপর্ণা গঙ্গোপাধ্যায়, মন্দিরা ঘোষ, রূপায়ণ ঘোষ, রিমঝিম আহমেদ, সায়ন রায়, তানিয়া চক্রবর্তী, শমিত মণ্ডল, প্রজিত জানা, সৈয়দ কওসর জামাল প্রমুখ।


সুন্দর কাগজ এবং নির্ভুল ছাপানো সংখ্যাটি সমস্ত পাঠকের কাছেই সমীহ আদায় করে নেবে। সম্পাদক সৈয়দ কওসর জামাল, বর্ণনা প্রকাশনী, ৬/৭বিজয়গড়, কলকাতা-৭০০০৩২, ইমেল:trapeze90@gmail.com(ওয়ার্ড ফাইলে লেখা পাঠাবেন), মূল্য-১০০ টাকা।


মন্দাক্রান্তা 


'মন্দাক্রান্তা'(১৪২৯) বসন্ত সংখ্যা অজস্র কবিতা, আলোচনা মূলক গদ্য ও পুস্তক সমালোচনা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। বেশ ঝরঝরে সুন্দর একটি পত্রিকা। কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: মোহিনীমোহন গঙ্গোপাধ্যায়, নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, শংকর চক্রবর্তী, তাপস ওঝা, বেণু সরকার, রাজকুমার রায়চৌধুরী, প্রবীর দাস, উত্তম চৌধুরী, হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, শীলা সরকার, রুচিস্মিতা ঘোষ, মধুমিতা চক্রবর্তী, অংশুমান চক্রবর্তী, শুভঙ্কর দাস, শ্রাবণী বসু, রাজেশচন্দ্র দেবনাথ, অবিন রায়চৌধুরী, মহম্মদ সামিম, বিবেকানন্দ বসাক, বনশ্রী রায়দাস, উদয়শংকর মহান্তি, সুনীল মাজি, গৌতম হাজরা, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, কৃষ্ণ মিশ্র ভট্টাচার্য, উত্তম চৌধুরী, ফটিক চৌধুরী, মাধবী দাস প্রমুখ। সম্পাদক সুবর্ণ রায়, ২৮, টেগর টেম্পল রোড, ডাকঘর শ্যামনগর, উত্তর  ২৪ পরগনা-৭৪৩১২৭,ইমেল :mandakranta. mag@gmail.com, মূল্য ১০০ টাকা ।


ঐশিক


'ঐশিক'(মার্চ ২০২২)  আত্মপ্রকাশ সংখ্যাটি খুব ভালো লাগল। পত্রিকা প্রকাশে ভয় ও আগ্রহ নিয়ে অগ্রসর হওয়া সম্পাদকের কাছে শেষ পর্যন্ত তা আনন্দে পূর্ণতা পেয়েছে। কেননা সুন্দর পত্রিকাটি তিনি পাঠককে উপহার দিতে পেরেছেন। নতুন কিছু করার উদ্যোগ নিয়েই তিনি সাহিত্যে অগ্রসর হতে চেয়েছেন এই সংখ্যাটিতেই তা আঁচ করা যায়। দীর্ঘ লেখক তালিকা থেকে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করতে পারি: সুবীর সরকার, গোলাম রসুল, বিকাশ চন্দ,সমর সুর, সুজান মিঠি, খুকু ভূঞ্যা, এনাক্ষী কয়াল মণ্ডল, হামিদুল ইসলাম, অভিনন্দন মাইতি, বিমল মণ্ডল, গোবিন্দ মোদক, শান্তনু গুড়িয়া, নরেন হালদার, শাশ্বতী হোসেন, প্রভাত শতপথী,  অরিন্দম প্রধান, তাপস রায়, মনোতোষ আচার্য, তুষার কান্তি রায়, লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল, বাসুদেব গায়েন, সোমনাথ বেনিয়া, অর্ঘ্য ঘোষ, অসীম ভূঁইয়া প্রমুখ আরও বহু লেখক। সম্পাদক অনিমেষ মণ্ডল, চলভাষ:৯৬০৯৪৬৩৬৫৯

 ইমেইল: oishik.ani.22@gmail.com

 মূল্য: উল্লেখ নেই।



অণুরণন 


'অণুরণন'(১৪২৯) নববর্ষ সংখ্যাটি অসাধারণ প্রচ্ছদে প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকাটি মূলত অণুগল্পের পত্রিকা। সিদ্ধার্থ সিংহের একটি প্রবন্ধ ছাড়া প্রায় ৪০-এর অধিক অণুগল্প নিয়ে  সংখ্যাটির পূর্ণতা। প্রতিটি অণুগল্পই ভালো লাগে। বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাবনার এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতার ছায়াপাত ঘটেছে এইগুলিতে। কোনো কোনো অণুগল্প ব্যঞ্জনাশ্রয়ী কাব্যিক সুষমামণ্ডিত।


পড়তে পড়তে এক ভিন্ন জগতের উপলব্ধি আসে। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন লেখক হলেন: শুভময় রায়, জর্জ ট্রয়েট, অনিমেষ চট্টোপাধ্যায়, তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার রুজ, তরুণ মান্না, স্বপন চক্রবর্তী, হিল্লোল ভট্টাচার্য, সৌরভ ঘোষ, জন্মেজয় সাহু, কাঞ্চন পাঠক, শ্যামলী রক্ষিত, অমিত কাশ্যপ, অরিত্র বেরা, রতন শিকদার, সুজয় চক্রবর্তী, সর্বানি রিংকু গোস্বামী, সন্দীপ দত্ত, হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, তপতী মিশ্র, মঞ্জিলা চক্রবর্তী, সোমনাথ বেনিয়া, বাবলু কাজি, মতিয়ার রহমান, দীপক কুমার মাইতি, সুনন্দা মাইতি, তরুণার্ক লাহা প্রমুখ।


সম্পাদক অসিতবরণ বেরা, ও টি রোড, ত্রিকোণ পল্লী, বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর-৭২১৪২৪,চলভাষ: ৯৪৭৪১৮৮২৬০, মূল্য-১০ টাকা।


শতানীক 


'শতানীক'(১৪২৯) নববর্ষ সংখ্যা অসাধারণ একটি সংকলন হয়ে উঠেছে। অজস্র কবিতার সঙ্গে মুক্তগদ্য, প্রবন্ধ, ধারাবাহিক রচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, ভ্রমণ কাহিনি, পুস্তক আলোচনা, ডাক্তারি পরামর্শ কী নেই? স্ফীত কলেবরে পত্রিকাটির বৃদ্ধি হলেও লেখার মানের দিক দিয়েও বেশ উন্নত। অসাধারণ কয়েকটি বড় গল্প পাঠককে আবিষ্ট করে রাখবে। এই গল্পগুলি লিখেছেন: বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায়, স্বপন মজুমদার, অন্বেষা রায়, দিলীপকুমার মিস্ত্রী, কাননদেব ভট্টাচার্য, শঙ্খ দাশ।


ছোটগল্প লিখেছেন: সুকুমার রুজ, প্রবীর রায়চৌধুরী, গৌতম বিশ্বাস, চণ্ডীচরণ দাস, সঞ্জয় কর্মকার, শুভেন্দু মজুমদার, তন্ময় সরকার, কালীপদ চক্রবর্তী, শৈবাল মুখোপাধ্যায়, দিলীপ রায়, সুকুমার খাঁড়া, সমীর কুমার, দেবীদাস নন্দী, মানস ভট্টাচার্য, নিত্যরঞ্জন দেবনাথ। ভ্রমণ কাহিনি লিখেছেন নবারুণ চক্রবর্তী। পুস্তক আলোচনা করেছেন মানস সরকার এবং রক্তিম ভট্টাচার্য। কবিতা ও অণুগল্পগুলির সংখ্যাধিক্য হলেও পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি হবে না। এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পত্রিকা। সম্পাদক নিত্যরঞ্জন দেবনাথ,১-নং ফার্ম সাইড রোড, চুঁচুড়া আর এস, হুগলি-৭১২১০২, চলভাষ:৯৪৩২৮৪৭৬২৪, মূল্য ১০০ টাকা।




১০

সৌপ্তিক


'সৌপ্তিক'(ফেব্রুয়ারি ২০২২) ঊনবিংশ বর্ষের পত্রিকার এই সংখ্যাটি পাঠকের কাছে আরও আগ্রহ জাগ্রত করেছে। সুন্দর প্রচ্ছদের সঙ্গে ভেতরের পৃষ্ঠাতেও অলংকরণ করার প্রয়াস লক্ষ করা যায়। প্রতিটি লেখাই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শিশু মনস্তত্ত্বের ওপর লক্ষ্য রেখেই কিছু কিছু ছড়া-কবিতা ও গল্প বেশ উপজীব্য হয়ে উঠেছে। ফলে সব শ্রেণীর পাঠকের কাছেই পত্রিকাটি আকর্ষণীয়। শুভ দাশগুপ্ত, ভবানীপ্রসাদ মজুমদার, অরুণকুমার চক্রবর্তী, শ্যামলকান্তি দাশ, অসীম সাহা, সুধীর দত্ত, রূপক চট্টরাজ, প্রাণেশ সরকার, দীপ মুখোপাধ্যায়, রামচন্দ্র পাল, অভীক বসু, সিদ্ধার্থ সিংহ, রবীন ভট্টাচার্য, অরুণ মুখোপাধ্যায়, দিলীপ মজুমদার, আরণ্যক বসু, দেবেশ ঠাকুর, তরুণকান্তি বারিক, অচিন্ত্য সুরাল, আনসার উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, প্রদীপ আচার্য, দেবব্রত দত্ত, অর্পিতা নন্দী, ঋতশ্রী মজুমদার, বাপ্পা দত্ত প্রমুখ প্রচুর লেখককে একইসঙ্গে পেয়ে যায়।


অজিত বাইরী লিখেছেন ছোট গল্প, রতনতনু ঘাটীও লিখেছেন ছোটগল্প। দুটি গল্পই কাব্য সুষমামণ্ডিত। শতবর্ষে বিদ্রোহী কবিতা নিয়ে আলোকপাত করেছেন ডক্টর দেবনারায়ণ মোদক। খুব পজিটিভ আলোচনা। শামসুর রহমানের সংক্ষিপ্ত কালপঞ্জি নিয়ে তাঁর কাব্য পরিচিতির ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরেছেন ডক্টর কৃষ্ণেন্দু দত্ত। বাংলার বাইরের বাংলা গদ্য চর্চার অনুসন্ধান করেছেন ডক্টর চিরঞ্জিৎ রায়।  এই সময়ের খুব উল্লেখযোগ্য রচনা।


সম্পাদক পার্থসারথি চৌধুরী, বেথুয়া ডহরি, নদীয়া, চলভাষ:৯৫৯৩৩৩৩৩৩৭,মূল্য ৬০ টাকা।



১১

শেরশাবাদের কাগজ


'শেরশাবাদের কাগজ'(জৈষ্ঠ ১৪২৮) দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সংখ্যা পেয়ে বুঝতে পারছি পত্রিকাটি বেশ যত্নের সঙ্গেই প্রকাশ করা হয়েছে।  এটি মূলত মালদহের গৌড় অঞ্চলের শেরশাবাদের আঞ্চলিক ভাষার কাগজ, এই ভাষাকে শেরশাবাদিয়া বলা হয়। এই ভাষা পূর্বী মাগধী বা গৌড়ীয় অপভ্রংশ হতে এসেছে। মধ্যযুগে পাল-সেন-সুলতানি বাংলার রাজধানী গৌড় অঞ্চলের পুরনো ভাষা এটি। এই অঞ্চলের মানুষ এই ভাষাতেই কথা বলে থাকেন। সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রেও এই ভাষাকে সংযুক্ত করে ভাষার মৃত্যুকে তারা রোধ করতে চান।


সেই কারণেই এই পত্রিকাটির জন্ম। প্রাচীন বাংলায় এই ভাষার জন্ম এবং এই ভাষার জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করেই বিভিন্ন গবেষণা লব্ধ প্রবন্ধ রচনা করেছেন। একথা স্পষ্ট করে তুলেছেন গম্ভীরা ও আলকাপ এই ভাষার অন্যতম লোকনাট্য। এছাড়া ফষ্টি বা ধাঁধা, লোকছড়া, কেস্সা, খেলার ছড়া, মেয়েলি গান এই ভাষার নিদর্শন। এই ভাষার প্রসঙ্গেই চাঁই ভাষার প্রচলনও উঠে এসেছে, যা শেরশাবাদ এর মধ্যেই পড়ে। শেরশাবাদের একটি নিদর্শন হলো:


"ধান পাক্যাছে ধান পাক্যাছে 

দেখবি যুতি আয় 

পাকা ধানের গন্ধে ওরে 

মন জুড়িয়া যায়!


 ভাদৈ ধানের চিঁড়া খাব

 আরো খাব খৈ

 ঢিঁকিছাঁটা চাইলের ভাতে

 চ্যাং মাছ আর কৈ।"

 লোকসাহিত্যের নানা দিক এই ভাষায় রচিত হয়েছে। পারিবারিক-সামাজিক নানা উৎসবের সঙ্গে কৃষি, বিবাহ, প্রকৃতি বিষয়েও বেশ সমৃদ্ধ কবিতা ও ছড়া পাওয়া যায়। এই কারণেই পত্রিকাটি কৌতূহল জাগ্রত করে। এই সংখ্যার উল্লেখযোগ্য লেখকরা হলেন: ড.আব্দুল অহাব, মোহন মণ্ডল, মুহা. আকমল হোসেন, মহ. ইব্রাহিম, এন্তাজুল হক, মো: কাওসার আলী, আমিনুল আহসান, ফিরোজ আলী আবির, সাত্তার আহমেদ, মুহা ওয়াহেদুজ্জামান, ইবনে যায়নাব, নুজহাত তুলি, মঈন তাজ, তাইবুর রহমান, মহা. তহিদুর রহমান, মহ. মাজরুল আবেদিন, অবাইদুর রহমান, আব্দুর রহিম, মুহম্মদ সাজিরুদ্দিন, সফিকুল আলাম, তারিক আনোয়ার, আনওয়ারুল হক প্রমুখ।


সম্পাদক ড.আবদুল অহাব, পূর্ব হায়দারপুর( দাদামোড়), মালদহ-৭৩২১০১,পশ্চিমবঙ্গ,মূল্য-১৫০ টাকা। ফোন:৭০০১৫৬২১৬৮/৯০০২১৬৭৪২৯


১২

গানের কথা 


'গানের কথা'(ঈদ সংখ্যা ২০২২) ছিমছাম পত্রিকাটি কবিতা, প্রবন্ধ এবং বেশ কয়েকটি গল্পে পূর্ণতা পেয়েছে। বড়দের পাশাপাশি লিখেছেন বহু তরুণ-তরুণীও। কবিতায় আছেন: দীপান্বিতা পাণ্ডে দীক্ষিৎ,  রোজি খাতুন, আবদুস সালাম, শামীম আফরোজ, আব্বাস উদ্দিন, পায়েল রায়, উম্মে রুম্মান, শিউলি পারভীন, অন্তরা ঘোষ, সুজাতা সাহা, জয়শ্রী অধিকারী, দীপ্তেশ চ্যাটার্জী প্রমুখ। গল্পে আছেন: অরিত্রিক অধিকারী, শ্রেয়সী সাহা, গোলাম মোস্তফা, মুনু মিনাক্ষী মণ্ডল, অর্চিতা কর্মকার। নিবন্ধ লিখেছেন: হাসান উজ জামান আনসারী। স্মৃতিকথা লিখেছেন: মুহাম্মাদ জিকরাউল হক। সম্পাদক আহামাদুল্লা, সেলিমপুর, জালালপুর, মালদহ-৭৩২২০৬, চলভাষ: ৯৬৪১২১০৯২১/৮৬৭০৭৩৭০১১

 মূল্য: ভালোবাসা। 


১৩

প্রদর্শিকা


'প্রদর্শিকা'(মার্চ ২০২২) খুব সুন্দর একটি সংখ্যা। সাম্প্রতিক সাহিত্য, সমাজ-ভাবনা, রাষ্ট্র এবং ধর্ম-সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই সংখ্যায় একগুচ্ছ প্রবন্ধ আছে। লেখকরা হলেন: আমিনুল ইসলাম, কবিরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, আব্দুল হামিদ, হিরণময় গঙ্গোপাধ্যায়, সাইদুর রহমান, বশিষ্ঠদেব ঠাকুর। ছোটগল্প বিভাগটিও বেশ উল্লেখযোগ্য। এই সময়ের তরুণ কথাসাহিত্যিক ইসমাইল দরবেশ লিখেছেন 'ফেরা' নামে একটি গল্প। এছাড়া ওমর আলি, রাহুল পারভেজ, আলাউদ্দিন আহমেদ, মীর সহেব হকও একটি করে গল্প লিখেছেন। কবিতা বিভাগে: সুনীল মাজি, গোলাম রসুল, রাফিনা ইয়াসমিন, তীর্থঙ্কর মৈত্র, শাহিন কাদির, সেলিম শাহরিয়ার, আবু তাহের, আভা সরকার মণ্ডল, শর্মিলা ঘোষ প্রমুখ আরও বহু কবি কবিতা লিখেছেন। সম্পাদক নবিউল ইসলাম, ভগবানগোলা মার্কেট কমপ্লেক্স(দ্বিতল), রুম নং-২৭, ভগবানগোলা, মুর্শিদাবাদ-৭৪২১৩৫, চলভাষ:৯৭৩২৮৮৮৭৪১/৯৯৩২৯১৭৯০৫

 মূল্য-৩০টাকা।



webtostory

webtostory

webtostory

webtostory

webtostory

webtostory

webtostory

webtostory

webtostory

webtostory